খালিপেটে কালো কফি খেলে সমস্যা। সকালের প্রথম কফিটি তাই প্রাতরাশের সঙ্গে খাচ্ছেন কিংবা প্রাতরাশ সেরে ওঠার মিনিট দশেক পরে। কিন্তু সেই কাজটিও ঠিক হচ্ছে কি! কফি এমনই এক পানীয়, যার প্রভাব ১০০ থেকে শূন্য হতে পারে পানের সময়ের হেরফেরে। তাই স্বাস্থ্য ভাল রাখার উদ্দেশে যদি কফি পান করেন, তবে কোন সময়ে খাচ্ছেন, তা মাথায় রাখা উচিত। অন্তত তেমনই বলছেন পুষ্টিবিদ।
সকালে ঠিক কোন সময়ে কফি খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার?
এ ব্যাপারে একটি তত্ত্ব দিয়েছেন বেঙ্গালুরু নিবাসী তারকা পুষ্টিবিদ অনুপমা মেনন। এক পডকাস্টে তিনি বলছেন, ‘‘অনেকেই লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য ব্ল্যাক কফি খাচ্ছেন ইদানীং। আবার কেউ খাচ্ছেন ওজন কমানোর জন্য। দুধ-চিনি ছাড়া পান করলে কফি এই দু’টো কাজেই দীর্ঘমেয়াদে সাহায্য করতে পারে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কিন্তু খাওয়ার ভুলে শরীরে পুষ্টির অভাবও ঘটতে পারে।’’ তাই অনুপমার পরামর্শ সকালের প্রথম ব্ল্যাক কফিটি খাওয়ার আদর্শ সময় হল প্রাতরাশের অন্তত এক ঘণ্টা পরে।
কেন খাওয়ার পরেই কফি খাওয়া উচিত নয়?
খাওয়ার পরেই কফি খেলে প্রথম যে সমস্যাটি শরীরে হবে, তা হল খাবারের মাধ্যমে যে যে ভিটামিন, প্রোটিন এবং খনিজ শরীরে গেল, তার কোনওটিই শরীর গ্রহণ করতে পারবে না। এ ছাড়াও আরও নানা সমস্যা হতে পারে বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ।
পুষ্টি গ্রহণে সমস্যা
কফিতে থাকা ‘ট্যানিন’ এবং ‘পলিফেনল’ খাবার থেকে আয়রন এবং ক্যালশিয়াম শোষণে বাধা দেয়। যদি কেউ রক্তাল্পতায় ভোগেন, তবে তাঁর ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কফি খাওয়ার অভ্যাস বিপজ্জনক হতে পারে।
হজমের সমস্যা
পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে কফি। অনেকের ক্ষেত্রে এতে হজমের সুবিধা হলেও অনেকের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা আছে, তাঁরা খালি পেটে বা ভারী খাবার খাওয়ার ঠিক পরেই কফি খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে। হতে পারে অস্বস্তি।
কফি কখন খাবেন আর কখন খাবেন না?
১। সকালে খালি পেটে ব্ল্যাক কফি খাবেন না। এতে কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং অ্যাসিডিটি বাড়তে পারে। অন্তত হালকা কিছু খাবার খেয়ে তার পরে কফি খাওয়া নিরাপদ।
২। ঘুমের সমস্যা থাকলে দিনের শেষ কফিটি ঘুমোনোর অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে খান।
৩। যদি ওজন কমাতে চান তা হলে শরীরচর্চা করার আধ ঘণ্টা আগে ব্ল্যাক কফি পান করতে হবে। তবেই কফি বিপাকের হার বৃদ্ধি করবে। শক্তির জোগান দেবে। তাতে শরীরচর্চা করার উদ্যম মিলবে। ক্যালোরিও ঝরবে বেশি।
৪। লিভারের সমস্যায় দিনে ২-৩ কাপ ব্ল্যাক কফি নিরাপদ। তার থেকে বেশি কফি না খাওয়াই ভাল। কারণ, লিভারের সমস্যা শুধু কফি খেয়ে কমানো সম্ভব নয়।
৫। রক্তাল্পতায় ভুগলে কফি খান খাবার খাওয়ার অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরে। এঁরা চায়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম মানবেন।
৬। শরীরে বাড়তি মেদ জমতে দিতে না চাইলে কফি খাওয়া উচিত খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা পরে। কারণ এটি হজমে সাহায্য করার পাশাপাশি বিপাকের হার বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে, যা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক।