Advertisement
E-Paper

ভারতে কোন কোন ক্যানসারের প্রতিরোধ সম্ভব? সমীক্ষায় জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

কর্কট রোগের প্রাথমিক উপসর্গ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়লে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করা অনেক সহজ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সমীক্ষা জানাচ্ছে, কোন কোন ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৩
Which cancers are more preventable in India according to WHO

কোন কোন ক্যানসারের নিরাময় সম্ভব এ দেশে? ফাইল চিত্র।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতিতে কর্কট রোগেরও নিরাময় হচ্ছে। সমস্ত রকম ক্যানসার আর এখন ততটাও ভীতিপ্রদ নয়। বিশেষ করে সঠিক সময়ে সচেতন হলে কোনও কোনও ক্যানসারের প্রতিরোধও সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় প্রতি পাঁচ জনে এক জন ক্যানসারে আক্রান্ত। ২০২২ সালের এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, বিশ্বে প্রায় ২ কোটি মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। আবার, চিকিৎসার পরে পাঁচ বছর বা তার বেশি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন প্রায় ৫.৩৫ কোটি মানুষ। ভারতে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে আবার অনেকে ক্যানসার জয় করে স্বাভাবিক জীবনেও ফিরছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, সচেতন হলে এ দেশে কোন কোন ক্যানসার গোড়াতেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ভারতে কোন কোন ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য?

জরায়ুমুখের ক্যানসার

জরায়ুমুখে ক্যানসারের অন্যতম কারণই এইচপিভি বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। তবে এই ভাইরাসকে ঠেকানোর টিকা আছে। এ দেশেও সে টিকা এসে গিয়েছে। ৯ বছর বা তার ঊর্ধ্বে টিকা নিলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে। এইচপিভি টিকা নিরাপদ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। সঠিক বয়সে টিকা নিলে এটি জরায়ু, মলদ্বার, মুখগহ্বরের ক্যানসার থেকেও রক্ষা করতে পারে। ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে প্রতিষেধক নিলে তার কার্যকারিতা অনেক বেশি।

মুখগহ্বরের ক্যানসার

প্রাণঘাতী রোগের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হল ‘ওরাল ক্যানসার’ বা মুখের ক্যানসার। সমস্ত ধরনের ক্যানসারের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয় মুখের ক্যানসারে। তবে এটি প্রতিরোধযোগ্য। হু জানাচ্ছে, এ দেশে ২০২২ সালে দেড় লাখের কাছাকাছি নতুন ভাবে এই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়, মৃত্যু হয় প্রায় ৮৫ হাজারের। মুখগহ্বরের ক্যানসারের অন্যতম কারণ হল তামাকজাত দ্রব্যের নেশা। সিগারেট, খৈনি, গুটখা ও নানা রকম পানমশলা খাওয়ার অভ্যাস যদি ছাড়া যায়, তা হলে এই ক্যানসারকে রুখে দেওয়া যাবে।

স্তন ক্যানসার

বিশ্বে প্রতি ২০ জন মহিলার মধ্যে অন্তত ১ জন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি বছরের হিসেবে ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলেই আশঙ্কা। হু জানাচ্ছে, চিন ও আমেরিকার পরেই স্তন ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যায় ভারতের স্থান। অথচ গোড়ায় ধরা পড়লে চিকিৎসায় তা নির্মূল করা সম্ভব অনেক ক্ষেত্রেই। সময়ান্তরে পেট সিটি স্ক্যান বা ম্যামোগ্রাফির মতো পরীক্ষা করানোও জরুরি। হঠাৎ যদি স্তনে ব্যথা অনুভব করেন, তা ফেলে না রাখাই ভাল। ক্যানসার ফিরে আসার একটি লক্ষণ এটি। বুক, পিঠ, পাঁজরের হাড়ের ভিতর তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা হতে পারে। স্তনের আকারেও বদল আসতে পারে। এই লক্ষণ আগে থেকে চিনতে পারলে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্বভ।

ফুসফুসের ক্যানসার

যে সব ক্যানসারের শঙ্কা ভারতে সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে অন্যতম ফুসফুসের ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্তন ক্যানসারের পরেই এর স্থান। ধূমপান করলে এই ক্যানসারের শঙ্কা প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়ে। তবে আজকাল প্যাসিভ স্মোকার ও নন স্মোকাররাও এই অসুখের শিকার হচ্ছেন। নেশার কবল থেকে বেরিয়ে আসা ও দূষণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারলেই এই ক্যানসার জয় করা সম্ভব।

Cancer Risk cancer awareness cancer prevention
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy