শরীর ভাল রাখতে ঘরোয়া পথ্য, শাকসব্জির রসে ভরসা রাখেন অনেকেই। কুলেখাড়া থেকে কালমেঘের রস যেমন খাওয়া হয়, তেমনই স্বাস্থ্য ভাল রাখতে লাউয়ের রসও খান অনেকে। অ্যালো ভেরার রসও এখন প্যাকেটজাত অবস্থায় বিক্রি হয়।
সব্জি বা অ্যালো ভেরা শাঁসের রস শুধু শরীরে জলের চাহিদা পূরণ করে না, বরং এই পানীয় ভিটামিন, খনিজের খনিও। তবে গরমকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে হলে বেছে নেবেন কোনটি, লাউ না কি অ্যালো ভেরার রস?
লাউয়ের রস খাওয়ার উপকারিতা
· লাউয়ের ৯২ শতাংশই জল। লাউয়ের রস শুধু জলের চাহিদা মেটায় না, কলাকোষে জলের ভারসাম্যও বজায় রাখে। লাউয়ের রস শরীর খুব সহজেই শোষণ করতে পারে। জলের সঙ্গে শরীরে যায় ভিটামিন এবং খনিজও। ওজন কমাতেও লাউয়ের রস উপকারী।
· নুন এবং খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হলে, শরীর অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। ইলকট্রোলাইট, অর্থাৎ শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে লাউয়ের রস।
· ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং প্রয়োজনীয় নানা রকম খনিজ রয়েছে লাউয়ে। ভিটামিন সি এবং জ়িঙ্কের গুণে ভরপুর লাউ ত্বকের স্বাস্থ্যও ভাল রাখে। লাউয়ের রস খেলে ত্বক সতেজ থাকে। অল্প বয়সে ত্বকে বলিরেখা দেখতে না চাইলে লাউয়ের রস খেতে হবে।
· প্রাকৃতিক ভাবে শরীর ঠান্ডা রাখে। লাউয়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, যা হজমশক্তি বাড়ায়। অম্বল, বদহজম, গ্যাসেও উপকারী। নিয়ম করে খালি পেটে এক কাপ লাউয়ের রস খেলে গরমের দিনে পেট ঠান্ডা থাকবে।
অ্যালো ভেরার উপকারিতা
· অ্যালো ভেরায় রয়েছে ‘মিউকোপলিস্যাকারাইড’, যা অস্থিসন্ধি পিচ্ছিল রাখে এবং ত্বকের আর্দ্রতা, মসৃণতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অ্যালো ভেরার রস সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে ত্বককে বাঁচায়।
· অ্যালো ভেরার রস পেটের পক্ষে ভাল। এতে রয়েছে প্রদাহনাশক উপাদান, যা পাকস্থলীর প্রদাহ কমায়, হজমশক্তি ভাল করে।
· ভিটামিন সি, ই, বি১২, ফোলিক অ্যাসিডের মতো জরুরি ভিটামিন, খনিজ রয়েছে অ্যালো ভেরায়। জ়িঙ্কের মতো খনিজ মেলে এতে। এ ছাড়াও রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। অ্যালো ভেরার রস রোগ প্রতিরোধক।
বেছে নেবেন কোনটি
অ্যালো ভেরা এবং লাউয়ের রস, দুই-ই উপকারী। তবে যদি পেট ঠান্ডা রাখার প্রসঙ্গ ওঠে এগিয়ে থাকবে লাউয়ের রস। জলের চাহিদা পূরণেও লাউয়ের রস ভাল। তবে উপকারী হলেও কোনওটাই বেশি খাওয়া ঠিক নয়। সপ্তাহে ২-৩ দিন লাউয়ের রস এক কাপ করে খাওয়াই ভাল।
উপকারী হলেও, সব রস সকলের খাওয়া চলে না। সকলের শরীরে সবটা সহ্যও হয় না। বিশেষত, নিয়ম করে খাদ্যতালিকায় জুড়তে হলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।