Advertisement
E-Paper

ঘরের আবহাওয়া আরামদায়ক, তাও ঠান্ডা মেঝেতে পা পড়লেই কেন কেঁপে ওঠে শরীর?

ঘর তেমন ঠান্ডা নয়। তা সত্ত্বেও ঠান্ডা মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটলে, আচমকা শীতের অনুভূতি হয় কেন? পায়ের সঙ্গে কী সম্পর্ক এর?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৯
ঠান্ডা মেঝেতে পা দিলেই ভীষণ শীত করে কেন?

ঠান্ডা মেঝেতে পা দিলেই ভীষণ শীত করে কেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

দরজা-জানলা বন্ধ করা ঘরে তেমন ঠান্ডা নেই। বাইরের শীতল হাওয়ার দাপটও সেখানে এসে পৌঁছোচ্ছে না। কিন্তু সোফা বা বিছানা থেকে নামতে গিয়ে মেঝেতে পা পড়তেই কেঁপে উঠল শরীর। মনে হল, কী শীত! এমন অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই অনেকেরই হয়েছে?

ঘরের তাপমাত্রার হেরফের হচ্ছে না। কিন্তু বিছানা থেকে মেঝেতে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হঠাৎ ঠান্ডার অনুভূতি বেড়ে যায় কেন? এর পিছনেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। যা হয়, তা কিন্তু এমনি এমনি হয় না।

আসল সমস্যা লুকিয়ে থাকে পা এবং ঠান্ডা মেঝেয়। সারা দেহের অসংখ্য স্নায়ু এসে শেষ হয় পায়ের পাতায়। চিকিৎসকেরা বলেন, দেহের অন্য যে কোনও অংশের থেকে পায়েই রয়েছে সবচেয়ে বেশি স্নায়ু। আবার অন্য দিকে, একজন মানুষ কোথায় রয়েছেন, কেমন পরিবেশে রয়েছেন, তা শারীরিক ভাবে প্রথম অনুভব করে পায়ের পাতাই। ফলে পায়ের পাতা চোখের আড়ালে থেকেও শরীরের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করে।

ঠান্ডা মেঝেতে পা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই সঙ্কেত পৌঁছে যায় মস্তিষ্কে। ফলে গায়ে যত মোটা সোয়েটার-চাদর জড়ানোই থাক না কেন, মস্তিষ্ক বোঝে, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে এবং সেই মুহূর্তে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে সুরক্ষিত এবং উষ্ণ রাখা প্রয়োজন। পা ঠান্ডা হওয়া মাত্রই মস্তিষ্ক শরীরের রক্ত চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। সে হাত-পা থেকে রক্ত চলাচল কমিয়ে শরীরের কোর এরিয়া বা মধ্য অংশে (পেট-পিঠের অংশে) পাঠিয়ে দেয় যাতে শরীরের জরুরি প্রত্যঙ্গগুলি উষ্ণ থাকে।

নরওয়ের অসলোতে এ নিয়ে একটি পরীক্ষাও চালানো হয়েছিল। যেখানে ঘরের তাপমাত্রা রাখা হয়েছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই ঘরে উপস্থিত এক দল সদস্যকে বলা হয় চটি পরে ঠান্ডা কাঠের মেঝেতে হাঁটতে। আর এক দলকে খালি পায়ে হাঁটানো হয়। দেখা যায়, যাঁরা খালি পায়ে হেঁটেছিলেন তাঁরা শীতে কেঁপে গিয়েছেন। একজন মহিলা বলেছিলেন, ‘‘ঠান্ডা মেঝেতে পা দিতেই মনে হল কোমর পর্যন্ত কেঁপে উঠছে।’’

আসলে এটি হলে শরীরের নীতি। ঠান্ডার সংস্পর্শে এলেই তার মধ্যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। মস্তিষ্ক চায় না শরীরের তাপ বাইরে বেরিয়ে যাক। তখন সে হাত, পা, কানের বদলে শরীরের কোর অংশে রক্ত সঞ্চালনের নির্দেশ দেয়। সেখানেই তাপমাত্রা ধরে রাখতে চায়, যাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গ ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে। যে হেতু এই সময় হাত, পা, কান বা নাকে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছোতে পারে না, তাই কয়েক মিনিটের মধ্যেই মনে হয় হাত-পা, কান ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। সারা শরীরই জমে যাচ্ছে। ঘরের তাপমাত্রা একই থাকলেও, শুধু পা ঠান্ডা হওয়ার জন্যই শীত লাগতে শুরু করে।

শীত এড়ানোর উপায় কী?

শীত এড়াতে গেলে শরীর গরম রাখা জরুরি। সেই জন্য পা গরম রাখতে হবে। মেঝেতে গালিচা পেতে রাখলে, পায়ে সরাসরি ঠান্ডা লাগবে না। তা ছাড়া মোজা বা চটি পরে থাকলেও ঠান্ডা কম লাগবে। মোটা সুতির মোজার বদলে, পাতলা উলের মোজাও শরীর গরম রাখতে বেশি কাজ দেবে, কারণ উল তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

cold Health Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy