সুদূর পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসের সঙ্গে ভারতকে মিত্রতার বন্ধনে জুড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুটি দেশের মধ্যে দূরত্ব ঘুচেছে নিবিড় আতিথেয়তা ও পারস্পরিক আলোচনায়। তার মধ্যেই নজর কেড়েছে ‘ডাব পে চর্চা’। সেশেলসের বোটানিক্যাল গার্ডেনে রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হার্মিনির সঙ্গে খোশমেজাজে ডাবের জল পান করতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। সে ছবি সমাজমাধ্যমে রীতিমতো ‘ভাইরাল’। ডাবের জল পান নিছকই সাধারণ একটি ব্যাপার, কিন্তু আফ্রিকার এক দেশে গিয়ে সেখানকার রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে নরম পানীয় বা সে দেশের ঐতিহ্যবাহী কোনও পানীয়ের বদলে ডাবের জল পান বিষয়টিই নজর কেড়েছে বেশি। বাজারচলতি যে কোনও পানীয়ের বদলে খাঁটি দেশীয় পানীয়ই যে সেরা, তা বারে বারেই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি রেডিয়োতে তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান এসেও দেশে তৈরি শরবত ও ‘নারিয়েল পানি’ পান করার পরামর্শই দিয়েছিলেন। ভিনদেশে গিয়েও তার ব্যতিক্রম হল না।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে প্রধানমন্ত্রী যখন নানা রকম যোগাসন করে দেখাচ্ছিলেন, তখন সেই আসনগুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। অনেকেই বাড়িতে তা অভ্যাসের চেষ্টাও করেন। এখন ডাবের জলের মতো খাঁটি দেশীয় পানীয়ের উপকারিতাও নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সেশলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হার্মিনির সঙ্গে ডাবের জল পান করছেন প্রধানমন্ত্রী।
কেন বাজারচলতি এনার্জি ড্রিঙ্কের চেয়ে ভাল ডাবের জল?
ডাবের জল যে উপকারী তাতে কোনও সন্দেহই নেই। ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই এখন বোতলজাত স্পোর্টস বা এনার্জি ড্রিঙ্কের দিকে হাত বাড়ান। কিন্তু পুষ্টিগুণের বিচারে ডাবের জলের চেয়ে ভাল এনার্জি ড্রিঙ্ক আর হয় না। বাজারচলতি এনার্জি ড্রিঙ্কে প্রচুর পরিমাণে কৃত্রিম রং, চিনি ও প্রিজ়ারভেটিভ থাকে, যা শরীরের ক্ষতি করে। কিন্তু ডাবের জলে তা নেই। ডাবের জলে রয়েছে ভরপুর পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। তীব্র গরমে বা পরিশ্রমের পর শরীর থেকে যে খনিজগুলি বেরিয়ে যায়, ডাবের জল তা নিমেষেই পূরণ করে। ডাবের জলের চেয়ে খাঁটি ইলেকট্রোলাইট পানীয় আর হয় না।
আরও পড়ুন:
খেলোয়াড় ও তারকাদের দেখাদেখি এখন স্পোর্টস ড্রিঙ্ক খাওয়ার চল হয়েছে কমবয়সিদের মধ্যে। স্পোর্টস ড্রিঙ্ক সাময়িক ভাবে শরীরে চনমনে ভাব আনে ঠিকই, কিন্তু বেশি খেলে ওজন বাড়তে পারে। এতে ক্যালোরি অনেক বেশি থাকে। বদলে ডাবের জলে ক্যালোরির মাত্রা অত্যন্ত কম, ফলে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
ডাবের জল আর কী কী ভাবে খেতে পারেন?
ডাবের জল দিয়েও নানা রকম শরবত বানানো যায়। রাস্তায় বিক্রি হওয়া লাল-নীল শরবতের বদলে বাড়িতে ডাবের জল দিয়েই বানিয়ে নেওয়া যায় নানা স্বাদের শরবত।
ডাব-পুদিনার শরবত
এক গ্লাস ডাবের জলের সঙ্গে এক চামচ পাতিলেবুর রস, ৪-৫টি থেঁতো করা পুদিনাপাতা এবং সামান্য বিটনুন মিশিয়ে নিন। বরফকুচি দিয়ে পরিবেশন করুন। এটি গরমের দিনে শরীর সতেজ রাখবে।
তরমুজ ও ডাবের জলের কুলার
তরমুজ ছোট ছোট টুকরো করে নিতে তা ব্লেড করে রস ছেঁকে নিন। এ বার সমপরিমাণ তরমুজের রস ও ডাবের জল একসঙ্গে মেশান। উপর থেকে একটু লেবুর রস ও চাট মশলা ছড়িয়ে দিন। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর এই পানীয় ক্লান্তি কাটাবে এবং শরীরে জলশূন্যতার সমস্যাও দূর করবে।
লিচু ও ডাবের শরবত
তাজা লিচুর রস বা দানা ছাড়ানো ১০-১২টি লিচু, সঙ্গে এক গ্লাস ডাবের জল নিয়ে নিন। ব্লেন্ডারে লিচুর শাঁস, ডাবের জল ও বিটনুন মিশিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিন। এ বার গ্লাসে ঢেলে উপর থেকে ডাবের কুচোনো শাঁস এবং পুদিনাপাতা ছড়িয়ে বরফকুচি দিয়ে পরিবেশন করুন। অতিরিক্ত চিনির প্রয়োজন নেই, ডাব ও লিচুর মিষ্টিতেই শরবতের স্বাদ ভাল হবে।