Advertisement
E-Paper

খাবার যথা সময়ে না খেলে কি অন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে? কী ভাবে খেলে পেট ভাল থাকবে, হজমের সমস্যও হবে না

পরিপাকতন্ত্র নির্দিষ্ট সময়ের ছন্দ মেনে চলে। তাই প্রতি দিন খাওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় বাঁধা থাকলে আর সেই সময় ধরে খাওয়াদাওয়া হলে পেট ভাল থাকে। তা না হলে বিগড়োয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২২

ছবি: সংগৃহীত।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য কেবল কী খাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে না, বরং কখন খাচ্ছেন এবং কীভাবে খাচ্ছেন তার ওপরও ভিত্তি করেও বদলে যায় অনেক কিছু। আসলে পরিপাকতন্ত্র নির্দিষ্ট সময়ের ছন্দ মেনে চলে। তাই প্রতি দিন খাওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় বাঁধা থাকলে আর সেই সময় ধরে খাওয়াদাওয়া হলে পেট ভাল থাকে। তা না হলে বিগড়োয়।

সময় বেঁধে খাওয়ার উপকারিতা কী? না হলে কী ক্ষতিই বা হতে পারে?

১. হজম প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা

Advertisement

দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করলে পাকস্থলী এবং অন্ত্র আগে থেকেই খাবার হজম করার জন্য প্রস্তুত থাকে। নিয়মিত সময়ে খেলে পাচক রস এবং পিত্তরস সঠিক সময়ে নিঃসৃত হয়, যা খাবারকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। অনিয়মিত সময়ে খেলে এই এনজাইমগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়।

২. মেটাবলিজম বা বিপাক হার নিয়ন্ত্রণ

শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া দিনের বেলা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রাতে দেরি করে ভারী খাবার খেলে শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, যা ওজন বৃদ্ধি এবং গ্যাসের সমস্যার প্রধান কারণ। সঠিক সময়ে খেলে শরীর পুষ্টি উপাদানগুলো ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।

৩. ব্লাড সুগার এবং ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ

অসময়ে খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ে পরিমিত আহার ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বজায় রাখে, যা অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

৪. ‘মাইগ্রেটিং মোটর কমপ্লেক্স’

অন্ত্রের নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখারও প্রক্রিয়া আছে। যাকে বলা হয় মাইগ্রেটিং মোটর কমপ্লেক্স বা এমএমসি। এটি দু’টি খাওয়ার মাঝের বিরতিতে অন্ত্রে জমা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার করে। যদি সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে খেতেই থাকেন, তবে অন্ত্র এই পরিষ্কার করার সময়টুকু পায় না, ফলে পেট ফাঁপার সমস্যা বা ক্ষুদ্রান্ত্রে ব্যাক্টেরিয়ার জন্ম হতে পারে।

৫. ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য

অন্ত্রে কোটি কোটি ভাল ব্যাকটেরিয়া থাকে। এদেরও নিজস্ব বিশ্রামের সময় প্রয়োজন। নিয়মিত সময়ে খাওয়া এবং রাতে ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করা এই ব্যাকটেরিয়াদের বংশবৃদ্ধিতে এবং অন্ত্রের আস্তরণ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হলে কী করবেন?

ব্রেকফাস্ট মিস করবেন না: সকালের খাবার পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলে।

দুপুরের খাবার হোক প্রধান আহার: আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক বিজ্ঞান উভয়ই বলে যে, যখন সূর্য মাথার ওপর থাকে (দুপুর ১২টা-২টো), তখন আমাদের হজম শক্তি সবচেয়ে প্রবল থাকে।

রাতের খাবার হোক হালকা ও দ্রুত: রাত ৮টার মধ্যে ডিনার সেরে ফেলা অন্ত্রের জন্য সবচেয়ে উপকারী।

মাঝখানের বিরতি: দুই খাবারের মাঝে অন্তত ৩-৪ ঘণ্টার গ্যাপ রাখা জরুরি যাতে অন্ত্র নিজেকে পরিষ্কার করতে পারে।

মনে রাখবেন: অন্ত্রকে বলা হয় শরীরের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’। একে যত শৃঙ্খলার মধ্যে রাখবেন, ততই মানসিক স্বাস্থ্য এবং শরীর ভাল থাকবে।

Gut Health Healthy Gut
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy