শীতে গরম ভাতের সঙ্গে শাক খেতে বেশ লাগে। শাকের স্বাস্থ্যগুণও কম নয়। বিশেষ করে শরীরে ভিটামিন, প্রোটিন এবং খনিজের ঘাটতি পূরণ করতে টাটকা শাকসব্জি খাওয়া জরুরি। শাক প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর, যা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। তবে শুধু রোগ প্রতিরোধ নয়, ত্বক থেকে চুল— সবই ভাল রাখে শাকপাতা। এই মরসুমে যে কোনও রোগবালাই সহজেই হানা দেয় শরীরে। তাই প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ভরসা রাখতে পারেন শাকে। পঞ্জাবিদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হলেও শাকের তালিকায় এটি খানিক উপেক্ষিত। জেনে নিন, শীতের মরসুমে এই শাক খাওয়া কেন জরুরি।
১) সর্ষে শাক শরীরকে উষ্ণ রাখে। রসুন, কাঁচালঙ্কা দিয়ে সর্ষে শাক বানালে হজম ও রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার উদ্দীপনার মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরে তাপ উৎপন্ন হয়। শীতকালে এই কারণে শরীর গরম থাকে।
২) শীতকালে নাক বন্ধ, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়। সর্ষে শাকে এমন কিছু উপাদান থাকে যা শরীরে জমে থাকা কফ বার করে দিতে পারে। এই শাক ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্র থেকে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা দূর করতে সাহায্য করে।
৩) শীতকালে স্বাভাবিকভাবেই হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ঠান্ডা আবহাওয়া, শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়া এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন—এই সবের জন্য দায়ী। সর্ষে শাকের ফাইবার ভরপুর মাত্রায় থাকে। ফলে হজমশক্তি বাড়ে। শীতের দিনে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতেও সর্ষেশাক খেতে পারেন।
কতটা খাবেন?
সর্ষে শাকে এমন কিছু উপাদান থাকে যা শরীরে জমে থাকা কফ বার করে দিতে পারে। ছবি: এআই।
পুষ্টিবিদের পরামর্শ, সারা বছরই পাতে একটু করে যে কোনও রকমের শাক রাখা দরকার। তবে তার পরিমাপ বুঝতে হবে। ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পরিমাণের কাঁচা শাক রান্না করলে যতটুকু হয়, বয়স্কেরা ততটাই খেতে পারেন। যে সমস্ত শিশু সব ধরনের খাবার খেতে অভ্যস্ত, তাদেরও শাক দেওয়া দরকার। তবে পরিমাণ হবে আরও কম। প্রাপ্তবয়স্কেরা এর চেয়ে একটু বেশি পরিমাণে খেতে পারেন।