পরনে বায়ুসেনার পোশাক। হেলিকপ্টারে উঠে বসেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সহকারী পাইলটের আসনে গিয়ে বসেন তিনি। হেলিকপ্টারটি ওড়ার আগে হাতও নাড়েন। দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসাবে রাফাল যুদ্ধবিমানের পর এ বার বায়ুসেনার লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার (এলসিএইচ) ‘প্রচণ্ড’তে সওয়ার হলেন দ্রৌপদী মুর্মু। শুক্রবার ভারত-পাক সীমান্তে রাজস্থানের জৈসলমেরে বায়ুসেনাঘাঁটিতে যান তিনি। সেখান থেকে ‘প্রচণ্ড’ হেলিকপ্টারে সওয়ার হন রাষ্ট্রপতি।
বৃহস্পতিবারই রাজস্থানে পৌঁছে যান রাষ্ট্রপতি। দু’দিনের সফর তাঁর। শুক্রবার পোখরানের ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জ-এ ‘বায়ু শক্তি ২০২৬’-এর প্রদর্শনী রয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসাবে হাজির থাকবেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর আগে লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টারে সওয়ার হলেন তিনি। বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিংহ রাষ্ট্রপতিকে জৈসলমেরের বায়ুসেনাঘাঁটিতে স্বাগত জানান।
আরও পড়ুন:
২৫ মিনিটের সেই উড়ানে জৈসলমের শহর এবং সংলগ্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি। সেনা কপ্টারে সওয়ার হওয়ার আগে বায়ুসেনার আধিকারিকেরা তাঁকে সব কিছু বুঝিয়ে দেন। ককপিটে বসেই তিনি আত্মনির্ভরতার বার্তা দেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘প্রচণ্ড হেলিকপ্টার দেশের আত্মনির্ভরতার এক শক্তিশালী প্রতীক। এই সময় জৈসলমের পরিদর্শন করছি। আমাদের জওয়ানদের কৃতজ্ঞতা এবং শুভেচ্ছা জানাই।’’
এর আগে গত বছরের অক্টোবর হরিয়ানার অম্বালায় বায়ুসেনাঘাঁটি থেকে রাফাল যুদ্ধবিমানে সওয়ার হয়েছিলেন মুর্মু। প্রসঙ্গত, পদাধিকারবলে রাষ্ট্রপতি ভারতের সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। এর আগে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে অসমের তেজপুরের বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে সওয়ার হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। তার আগেই অবশ্য মুর্মুর দুই পূর্বসূরি এপিজে আব্দুল কালাম এবং প্রতিভা পাটিল ওই যুদ্ধবিমানে সওয়ার হয়েছিলেন। তবে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসাবে রাফালের যাত্রী হন মুর্মু। এ বার দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসাবে লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার ‘প্রচণ্ড’-এর যাত্রী হলেন তিনি।
সম্পূর্ণরূপে ভারতে নির্মিত সামরিক হেলিকপ্টার ‘প্রচণ্ড’। এটি তৈরি করেছে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল)। এটি পার্বত্য এলাকায় অভিযান চালাতে পারবে। ৬,৫০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে এই হেলিকপ্টার। ওজন ৫৮০০ কেজি। গতি ঘণ্টায় ২৬৮ কিলোমিটার। এতে রয়েছে ২০ মিমি কামান, ৭০ মিমি রকেট, ট্যাঙ্ক ধ্বংসকারী হেলিনা ক্ষেপণাস্ত্র। এই হেলিকপ্টার শত্রুর রেডার ফাঁকি দিতে পারে। এটি পাকিস্তান ও চিন সীমান্তে শত্রুর ট্যাঙ্ক, বাঙ্কার ধ্বংস করতে কাজে লাগতে পারে।