স্থূলতার হাত ধরে যে সব রোগ শরীরে বাসা বাঁধে, তার মধ্যে একটি হল ফ্যাটি লিভার। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়ার ফলে লিভারে মেদ জমা হতে হতে এই সমস্যা আরও বড় আকার নেয়। লিভারে বেশি চর্বি জমতে থাকলেই তা বিপজ্জনক। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা পরবর্তীতে লিভারের ক্ষত বা লিভার সিরোসিসে গড়াতে পারে। তাই ফ্যাটি লিভারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ডায়েট করলেই চলবে না, সেই সঙ্গে নিয়ম করে অভ্যাস করতে হবে কিছু ব্যায়াম। সহজ কয়েকটি যোগাসনে লিভারের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে, ওজনও কমবে।
কোন কোন যোগাসনে ফ্যাটি লিভার নির্মূল হবে?
ফলকাসন
ম্যাটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। শরীর টানটান থাকবে। এ বার হাত ও কনুইয়ে ভর দিয়ে শরীরকে ধীরে ধীরে উপরে তুলুন। পায়ের ভর থাকবে বুড়ো আঙুলের উপর। দু’পায়ের মধ্যে দূরত্ব কম করে নেবেন।হাঁটু আর পেটও মাটি থেকে যতটা পারবেন উপরে তুলুন। পেট ভিতর দিকে টেনে রাখতে হবে।শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০-৩০ সেকেন্ড ওই অবস্থানে থাকতে হবে।
কপালভাতি প্রাণায়াম
কপালভাতি প্রাণায়াম শ্বাসের ব্যায়াম। ঠিক পদ্ধতিতে করতে পারলে সারা শরীরের উপকার হয়। এই আসন খুব তাড়াতাড়ি পেটের মেদ ঝরায়। হজমের গোলমাল থাকলে, তা কমায়। নিয়মিত কপালভাতি অভ্যাস করলে লিভার ভাল থাকে, রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। আসনটি করতে প্রথমে পদ্মাসনে বা সুখাসনে বসুন, কিছু ক্ষণ স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিন, শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে মুখ দিয়ে শ্বাস নিয়ে কিছু ক্ষণ ধরে রাখুন। এ বার ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। খেয়াল রাখবেন, শ্বাস ছাড়ার সময়ে পেট যেন একটু করে ভিতরের দিকে ঢুকে আসে। এই পদ্ধতিতে ২০ বার শ্বাস নিন ও ছাড়ুন।
আরও পড়ুন:
পার্শ্বকোণাসন
ম্যাটের উপর দুই পায়ের মধ্যে ব্যবধান রেখে দাঁড়ান। ডান পা ৯০ ডিগ্রি কোণে মুড়ুন ও বা পাঁ আরও কিছু প্রসারিত করুন। ডান হাতটি ডান পায়ের হাঁটুর উপর রাখুন। এর পর বাঁ হাতটি মাথার উপর দিয়ে প্রসারিত করুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই ভঙ্গিতে ২০-৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। পা বদলে আবারও অভ্যাস করুন। প্রতি দিন তিন সেটে ৩০ সেকেন্ড করে অভ্যাস করলে উপকার পাবেন।