বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, মানিব্যাগ বা আলমারির লকারকে কখনওই সাধারণ জিনিস হিসাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ এতে আমরা লক্ষ্মীর সঙ্গে সম্পর্কিত জিনিসপত্র রেখে থাকি। আলমারির লকারে সোনা-দানা ও পার্সে টাকাপয়সা রাখার ক্ষেত্রে আমরা অজান্তেই নানা ভুল করে থাকি। পার্স বা মানিব্যাগ কী ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করি তার উপর জীবনে আর্থিক সচ্ছলতা বা অনটন নির্ভর করে। অতি সাধারণ মনে হওয়া ভুলগুলোই অনেক সময় নিঃশব্দে আমাদের দেউলিয়া করে দেওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
বাস্তুশাস্ত্র মতে, ভুল ভাবে টাকাপয়সা রাখলে তা নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে, যা ধীরে ধীরে আপনার আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটায়। যদি ক্রমাগত আর্থিক ঘাটতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত খরচের কারণে সমস্যায় পড়েন, তবে অবিলম্বে এই ভুলগুলো সংশোধন করা জরুরি।
পার্স বা মানিব্যাগ হল আমাদের ভ্রাম্যমাণ ধনভান্ডার। এটি সব সময় আমাদের সঙ্গেই থাকে, তাই এর ইতিবাচক শক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
অনেকেই কেনাকাটার পর রসিদ বা বিল পার্সে জমিয়ে রাখেন। বাস্তুমতে, পুরনো বিল বা অকেজো কাগজ রাহুর প্রতীক। বাতিল কাগজ রেখে দেওয়া মানে অপ্রয়োজনীয় খরচ এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধি। এটি অর্থের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়, দেবী লক্ষ্মী পরিষ্কার ও পরিপাটি স্থানে বাস করেন। পার্স নোংরা, ছেঁড়া বা অগোছালো হলে তা আপনার আর্থিক অবস্থার ওপর সুস্পষ্ট প্রভাব ফেলে।
সমাধান:
প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক বার আপনার পার্স পরিষ্কার করুন। সব পুরনো রসিদ, ভিজ়িটিং কার্ড এবং অকেজো কাগজ সরিয়ে ফেলুন। পার্সে শুধু টাকা এবং জরুরি কার্ড রাখুন। ছেঁড়া নোট বা অপ্রয়োজনীয় কাগজ নেতিবাচক শক্তি সঞ্চার করে, যার কারণে টাকা বেশি দিন হাতে থাকে না। অপরিষ্কার ছিন্ন মানিব্যাগ বাতিল করতে হবে।
মুদ্রা ও নোট মিশিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকুন। মানিব্যাগে মুদ্রা ও নোট একসঙ্গে রাখলে আর্থিক শক্তির ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। মুদ্রার জন্য একটি আলাদা জায়গা রাখার চেষ্টা করুন এবং নোটগুলো সঠিক ভাবে গুছিয়ে রাখুন। অর্থের প্রতি সম্মান বজায় রাখুন। তা হলেই খরচ নিয়ন্ত্রণে আসবে।
অনেকে তাদের পার্সে ঈশ্বরের ছবি রাখেন। জ্যোতিষমতে এই অভ্যাসটি ত্যাগ করাই মঙ্গল। মানিব্যাগে ঠাকুরের ছবি রাখা অনুচিত বলে মনে করা হয়। পার্সে টাকা ও অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে তাদের ছবি রাখলে ইষ্টদেবতার প্রতি অসম্মান করা হয়। এই ধরনের ছবি বাড়িতে ঠাকুরের সিংহাসনে রাখাই সবচেয়ে ভাল।