গ্রেটার নয়ডায় ২৫ একর জমির উপরে ২৮৯ কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয় পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ইনস্টিটিউট অব আর্কিয়োলজি। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জন। নেই কোনও স্থায়ী শিক্ষক, নেই নির্দিষ্ট সিলেবাস। সম্প্রতি দু’টি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বেহাল দশার ছবি উঠে এসেছে।
পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষে ২০১৬ সালে এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। ২০১৯ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রবেশপথে বড় বড় ইংরেজি হরফে প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা রয়েছে। তাতে ‘উপাধ্যায়’-এর ‘ইউ’ এবং ‘ইনস্টিটিউশন’-এর ‘আই’ এবং ‘ই’ খসে পড়েছে। এই ভগ্নদশাই হয়তো প্রতিষ্ঠানের দীর্ণদশার ইঙ্গিত বহন করে। এই সুবিশাল প্রতিষ্ঠানটিতে কী নেই! এটিতে রয়েছে ১,০০০ আসনবিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়াম, একটি মুক্তমঞ্চ থিয়েটার এবং একটি প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর।
চার তলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ তলে প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক নিরাপত্তাকর্মী। তিনি জানান, তৃতীয় তলে শ্রেণিকক্ষ। প্রথম এবং দ্বিতীয় তলে গবেষণাগার ও গ্রন্থাগার। এক নিরাপত্তারক্ষীর কথায়, ‘‘প্রথম ও দ্বিতীয় তল প্রায় সব সময়ই বন্ধ থাকে। কেন থাকে তা বলতে পারব না।’’ তিনি জানান, এই সুবিশাল প্রতিষ্ঠানে একটি মাত্র লিফ্ট সচল। বাকিগুলি কাজ করে না। চার তলার প্রায় সব ঘর বন্ধ। করিডরে ধুলোর পুরু আস্তরণ। শৌচালয়গুলি ব্যবহারের অযোগ্য। প্রতিষ্ঠানের এক প্রশাসনিক আধিকারিকের কথায়, ‘‘উদ্বোধনের পর থেকেই এখানে কোনও সর্বক্ষণের শিক্ষক নেই। আসলে সর্বক্ষণের শিক্ষকের ধারণাটাই নেই এখানে।’’ তাঁর ব্যাখ্যা, এখানে শ্রেণিকক্ষের পাঠপাঠনের উপরে নয়, জোর দেওয়া হয় ব্যবহারিক শিক্ষায়। ব্যবহারিক প্রত্নতত্ত্বের সঙ্গে পরিচয় করানো হয়। কত জন পড়ুয়া রয়েছেন প্রশ্নের জবাবে ওই আধিকারিক বলেন, ‘‘গোটা দেশের ১৫ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়েন। ১০ ছাত্রী, ৫ ছাত্র।’’
সুবিশাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাত্র ১৫ জন ছাত্র কেন? কোনও স্থায়ী শিক্ষক নেই কেন? শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার এবং গ্রন্থাগার কেন অধিকাংশ সময় বন্ধ বা অব্যবহৃত? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল একটি প্রতিষ্ঠানে তার নিজের উপস্থিতিই যেন অদৃশ্য! এই সব প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)