মাত্র ১,৮২৭! টাইগার টাস্ক ফোর্সের ১৯৭২ সালের শেষ পর্বে সেই রিপোর্ট পেয়ে আর দেরি করেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ভারতের জাতীয় পশুর সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে দ্রুত তৎপর হয়েছিলেন তিনি। তারই পরিণামে ১৯৭৩ সালের নভেম্বরে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক ‘ব্যাঘ্রপ্রকল্প’ (প্রজেক্ট টাইগার) কর্মসূচি শুরু করেছিল।
চলতি বছর অর্ধশতক পূর্ণ হচ্ছে সেই উদ্যোগের। আর কর্নাটকের বিধানসভা ভোটের আগে সেই কর্মসূচিকেই হাতিয়ার করে দাক্ষিণাত্য সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার সকালে কর্নাটকের বন্দিপুর ব্যাঘ্রপ্রকল্প পরিদর্শনে যাবেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের পরেই দেশের সবচেয়ে বেশি বাঘের বাস কর্নাটকের জঙ্গলগুলিতে। সে রাজ্যের মহীশূরে প্রধানমন্ত্রী তিন দিনের ‘ব্যাঘ্রপ্রকল্পের ৫০ বছর স্মরণ’ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন। সেখানে তাঁর ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্মসূচির পঞ্চম দফার প্রতিবেদন এবং ‘প্রজেক্ট টাইগার’-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি স্মারকমুদ্রাও প্রকাশ করার কথা।
আরও পড়ুন:
ব্যাঘপ্রকল্পগুলিতে নজরদারির দায়িত্বে থাকা কুনকি হাতি বাহিনীর থেপ্পাকাডু প্রশিক্ষণ শিবিরেও যাওয়ার কথা মোদীর। যাবেন বন্দিপুর লাগোয়া তামিলনাড়ুর মুদুমালাই ব্যাঘ্রপ্রকল্পেও। সেখানে, ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাটস অ্যালায়েন্স’ (আইবিসিএ)-এর আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আইবিসিএ বিশ্ব জুড়ে ৭টি বৃহৎ মার্জার প্রজাতি— বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, তুষারচিতা, পুমা, জাগুয়ার এবং চিতা সংরক্ষণের কাজ করে। এর মধ্যে প্রথম ৪টি প্রজাতির সন্ধান মেলে ভারতে। সম্প্রতি মোদীর উদ্যোগেই নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতার পুনর্বাসন হয়েছে ভারতের জঙ্গলে।
জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের (ন্যাশনাল টাইগার কনজ়ারভেশন অথরিটি বা এনটিসিএ) রিপোর্ট বলছে, গত পাঁচ দশকে বাসস্থান ধ্বংস এবং চোরাশিকারের বিপদ থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে ভারতীয় বাঘ। দেশের বিভিন্ন অরণ্যে তাদের সংখ্যা এখন ৩ হাজারের কাছাকাছি। মোদীর বক্তৃতায় কি ‘স্বীকৃতি’ পাবে বাঘ সংরক্ষণে ইন্দিরার সেই ঐতিহাসিক উদ্যোগ?