Advertisement
E-Paper

মৃত পুত্রের সরকারি চাকরি এবং গ্র্যাচুইটির টাকার জন্য বৌমাকে খুন করলেন ৬০ বছরের বৃদ্ধা!

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মৃত্যু হয় রেলকর্মীর। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর গ্র্যাচুইটির ৯-১০ লক্ষ টাকা পান স্ত্রী। সেই নিয়ে শুরু হয় শাশুড়ি-বৌমার বিবাদ। অবশেষে এক বন্ধুকে দিয়ে বৌমাকে খুন করালেন শাশুড়ি!

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৮
Thane Murder Case

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

সরকারি চাকুরে যুবকের মৃত্যুর পর তাঁর ওই কাজের দাবিদার ছিলেন স্ত্রী। গ্র্যাচুইটির টাকাও পেয়েছেন তিনিই। ওই রোষে বৌমাকে খুন করলেন শাশুড়ি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের ঠানেতে। শনিবার ৬০ বছর বয়সি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, বছরের প্রথম দিন ঠানের কল্যাণ এলাকায় একটি সেতুতে এক মহিলাকে জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মাথায় এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। যুবতীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক জানিয়ে দেন আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। নিয়ম মেনে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে মৃতার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছিল।

পুলিশ একে একে দুই করেছে পরের দিন। লতাভাই নাথা গাঙ্গুরে নামে এক বৃদ্ধা থানায় গিয়েছিলেন নিখোঁজ ডায়েরি করতে। তিনি জানান, ৩৫ বছর বয়সি রূপালি বিলাস গাঙ্গুরে সম্পর্কে তাঁর পুত্রবধূ। ২৪ ঘণ্টা হয়ে গেল তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাক্রমে সেতুর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দেহ লতাকে দিয়ে শনাক্ত করায় পুলিশ। বৃদ্ধা জানান, উনিই তাঁর পুত্রবধূ। কিন্তু কী ভাবে রূপালির মৃত্যু হল, তার তদন্ত নেমে কার্যত চমকে যান তদন্তকারীরা।

জানা গিয়েছে, লতার একমাত্র পুত্র তথা রূপালির স্বামী বিলাস গাঙ্গুরে রেলে চাকরি করতেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর গ্র্যাচুইটির ৯-১০ লক্ষ টাকা পান স্ত্রী। সেই নিয়ে শুরু হয় শাশুড়ি-বৌমার বিবাদ।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ছেলের গ্র্যাচুইটির অর্থ বৌমার কাছে দাবি করেছিলেন লতা। সে নিয়ে মন কষাকষি চলছিল তাঁদের। তার পর ছেলের চাকরি পুত্রবধূ পাবেন শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে যান বৃদ্ধা। তিনি বৌমাকে জানান, ১৫ বছরের নাতি যখন সাবালক হবে ওই চাকরি সে করবে। তাতে রাজি হননি রূপালি। তিনি জানান, সংসার চালাতে হলে এখনই তাঁকে চাকরি করতে হবে। ওই বিবাদের জেরে বৌমাকে খুনের ছক কষেন শাশুড়ি।

পুলিশের দাবি, লতা স্বীকার করেছেন জগদীশ নামে তাঁর এক বন্ধুকে দিয়ে বৌমাকে খুন করিয়েছেন তিনি। লোহার রড দিয়ে মাথায় মারা হয়েছিল যুবতীর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সেতুর কাছে ফেলে পালিয়ে যান অভিযক্ত। মহারাষ্ট পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিকের কথায়, ‘‘এটা ঠান্ডা মাথায় খুন। চাকরি এবং টাকা নিয়ে বিবাদে পুত্রবধূকে মেরে তাঁর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করতে এসেছিলেন এক বৃদ্ধা। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করেছি।’’

ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন লতা এবং তাঁর জগদীশ। রবিবার তাঁদের আদালতে হাজির করানো হবে পুলিশ সূত্রে খবর।

Murder Case Maharashtra Police Crime
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy