২০০২ সালের তালিকায় নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন ৬৮ বছরের নাজিতুল মোল্লা। এমনিতে অসুস্থ ছিলেন। হাসপাতাল থেকে ফিরে নাকে নল লাগানো অবস্থায় শুনানিতে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়ি ফিরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। শনিবার হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের গড়দেওয়ানি গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ঠাকুরেচক এলাকার ওই বাসিন্দার। পরিবারের দাবি, অসুস্থ বৃদ্ধের প্রাণ কাড়ল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা জনিত আতঙ্ক। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
পরিবার সূত্রে খবর, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল জয়নগরের বৃদ্ধকে। এর মধ্যে তাঁর নামে এসআইআরের নোটিস যায় বাড়়িতে। গত ২৮ ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয় নাজিতুলকে। নাকে নল লাগানো অবস্থায় বাড়ি ফেরেন তিনি। এর পর গত ৩১ ডিসেম্বর শুনানিতে উপস্থিত হয়েছিলেন।
কিন্তু শুনানি থেকে বাড়ি ফিরে আবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় নাজিতুলের। বাড়িতে রাখা ঠিক হচ্ছে না ভেবে পরিবারের সদস্যেরা ২ জানুয়ারি আবার হাসপাতালে ভর্তি করান বৃদ্ধকে। শনিবার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
নাজিতুলের পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘‘উনি দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ। ঠিক এই সময়ই আসে এসআইআরের শুনানির ডাক। শারীরিক অবস্থা উপেক্ষা করেই নাকে অক্সিজেনের নল গুঁজে শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন উনি। কিন্তু ওই যাতায়াতের ধকল নিতে পারেনি শরীর।’’ পরিবারের দাবি, গত কয়েক দিন ধরেই এসআইআর নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন নাজিতুল। শারীরিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানসিক চাপও তাঁর মৃত্যুর কারণ। বাড়ির লোকের কথায়, ‘‘এসআইআর কেড়ে নিল মানুষটাকে।’’