ট্রেনে আগুন লেগেছে। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এমনই আতঙ্ক। আর তার জেরেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় কামরায়। শুরু হয় দৌড়োদৌড়ি। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ট্রেন থেকে ঝাঁপ মারেন পাশের ট্র্যাকে। আর সেই সময়েই উল্টো দিক থেকে আসা একটি ট্রেন পিষে দেয় তাঁর স্ত্রী-পুত্রকে। মোরেনা রেল দুর্ঘটনায় তিনি বাঁচলেন, কিন্তু পরিবার হারিয়ে দিশাহারা যুবক।
সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে নাদিম খান নামের ওই যুবক জানান, রেললাইনের উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল জামাকাপড়, ব্যাগ, জুতো-সহ নানান ব্যক্তিগত জিনিস। তাঁর কথায়, ‘‘কয়েক মুহূর্ত আগেও স্ত্রী এবং ৪ বছরের পুত্র আমার সঙ্গে ছিল। একটা দুর্ঘটনা, আমার গোটা পরিবারটি তছনছ করে দিল। চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে গেল।’’
রবিবার মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। আগুন লাগার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল খাজুরাহ-উদয়পুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসে। সঙ্গে সঙ্গে চেন ট্রেনে দাঁড় করানো হয়। আর তাতে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ে। ট্রেনের মধ্যে থাকা সকলেই বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। নাদিমের স্ত্রী-পুত্র ছাড়াও আরও দুই মহিলার মৃত্যু হয় একই ভাবে।
আগরা বাসিন্দা নাদিম। হরপালপুর থেকে সপরিবার আগরা ফিরছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আফরিন এবং দুই পুত্র। নাদিমের কথায়, ‘‘মোরেনা দিয়ে ট্রেন যাচ্ছিল, তখন কেউ একজন হঠাৎই চেঁচিয়ে বলেন আগুন লেগেছে। সঙ্গে সঙ্গে কামরার অবস্থা পাল্টে যায়। সকলে লাফিয়ে নামতে শুরু করেন। কেউ একজন ট্রেনের চেন টেনে দেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার চোখের সামনে আফরিন এবং পুত্র আরশাদের শরীরের উপর দিয়ে ট্রেন চলে গেল।’’
আরও পড়ুন:
নাদিমেরা সাধারণ কোচে ভ্রমণ করছিলেন। অতিরিক্ত ভিড়ে কামরাটি এমনিতে ঠাসা ছিল। কোনওক্রমে কামরায় বসার জায়গা করে নিয়েছিলেন আফরিন। তাঁর কোলে ছিলেন আরশাদ। আতঙ্ক ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আফরিন পুত্রকে নিয়ে ট্রেন থেকে নামতে যান। আর নাদিম তাঁদের বড় পুত্রের খোঁজ শুরু করেন ভিড়ের মধ্যে। তখনই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। নাদিমের কথায়, ‘‘পরে আমরা জানতে পারলাম কোনও আগুন লাগেনি। কেবল গুজব ছিল।’’
এক রেলকর্তা জানিয়েছেন, পাতালকোট এক্সপ্রেসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার। তবে বাঁকের কারণে পাতালকোট এক্সপ্রেসের চালক রেললাইনের উপর যাত্রীদের দেখতে পাননি। জরুরি ব্রেক কষলেও দুর্ঘটনা পুরোপুরি এ়ড়ানো যায়নি। ঝাঁসি বিভাগীয় রেলের ম্যানেজার (ডিআরএম) জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে আগুন লাগার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গিয়েছে, একজন মহিলা যাত্রী চেন টেনেছিলেন। তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।