E-Paper

গুরুতর কারণ ছাড়া চাকরি থেকে বরখাস্ত নয়: সুপ্রিম কোর্ট

০০৬ সালে বিভাগীয় তদন্ত চলাকালীন তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং ২০০৮ সালে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০৯:২৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

চাকরি থেকে বরখাস্ত করা কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলামূলক শাস্তিগুলির মধ্যে সবচেয়ে কঠোর বলে মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কাউকে বরখাস্ত করতে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের প্রকৃতি ও গুরুত্ব, কর্মী কত দিন চাকরি করেছেন, তাঁর পূর্ববর্তী কাজের রেকর্ড, বয়স, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কি না— এ সব বিষয় যথাযথ ভাবে বিবেচনা না করে এমন শাস্তি আরোপ করা উচিত নয়।

মূল মামলার আবেদনকারী সুরেখা দোমাজি বেলে ১৯৮৫ সালে মহারাষ্ট্র রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থায় যোগ দেন। ২০০৬ সালে বিভাগীয় তদন্ত চলাকালীন তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং ২০০৮ সালে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। পরে শ্রম আদালতে নতুন করে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১৭ সালে সংস্থা তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।
মামলাটি বম্বে হাই কোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে আসে। শুনানিতে সম্প্রতি দুই বিচারপতির বেঞ্চের বক্তব্য, সুরেখার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ছিল মূলত শৃঙ্খলাভঙ্গ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করা এবং নথিপত্রে কারসাজি সংক্রান্ত। এগুলো দুর্নীতি, অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ বা নৈতিক স্খলনের মতো গুরুতর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। ফলে চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো সর্বোচ্চ শাস্তি এ ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও মাত্রাতিরিক্ত বলে আদালত মনে করে। বিচারপতিদের আরও বক্তব্য, চাকরি হারানো শুধু কর্মীর আয়ের উৎস বন্ধ করে না, তাঁর উপরে নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জীবনেও গুরুতর প্রভাব ফেলে এবং চাকরির নথিতে স্থায়ী কালো দাগ হিসেবে থেকে যায়। তাই সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে ছাড়া এই শাস্তি প্রয়োগ করা উচিত নয়।

রায়ে আরও বলা হয়, তদন্ত চলাকালে সাময়িক বরখাস্তের সময়কালকে আবার আলাদা শাস্তি হিসেবে গণ্য করা যায় না। সুরেখার ক্ষেত্রে প্রায় ১১ বছর ধরে স্থগিতাদেশ বলবৎ ছিল। আদালতের মন্তব্য, এই সময়কে অতিরিক্ত শাস্তি হিসেবে ধরে নেওয়া আইনসম্মত নয়। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা ছাড়া অন্য কোনও শাস্তি বিবেচনা করতে হলে কর্তৃপক্ষকে নতুন করে কারণ দর্শানোর নোটিস দিতে হবে। পাশাপাশি স্থগিতাদেশের সময়ে ভাতা পাওয়ার দাবিও বিধি অনুযায়ী পুনর্বিবেচনা করতে হবে। শীর্ষ আদালতের এই রায়ের ফলে আবেদনকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার যে সিদ্ধান্ত বম্বে হাই কোর্ট বহাল রেখেছিল, তা বাতিল হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

suspension

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy