E-Paper

সফল ব্যাঙ্কোয়েট তুলে ফাঁকা জমি, আট বছরেও অধরা সরকারি প্রকল্প

সল্টলেকের ডিজি ব্লকে উদয়াচল টুরিস্ট লজ নামে ওই ভবনটি বহু পুরনো। এক সময়ে সেখানে মদের দোকান, বার, রেস্তরাঁ এবং অতিথিশালা ছিল।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০৯:৪৮
সল্টলেকের ডিজি ব্লকে এই ভাবে পড়ে রয়েছে পর্যটন দফতরের জমি।

সল্টলেকের ডিজি ব্লকে এই ভাবে পড়ে রয়েছে পর্যটন দফতরের জমি। ছবি: রণজিৎ নন্দী।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে গড়ে উঠেছিল একটি ব্যাঙ্কোয়েট। তা থেকে ভাল অঙ্কের রাজস্বও পেত পর্যটন দফতর। হঠাৎই সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে জায়গাটি জঙ্গলাকীর্ণ জমি। রাজ্যে পালাবদলের পরে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। লাভজনক প্রকল্প কেন বন্ধ করা হয়েছিল, সে প্রশ্নের জবাবে পর্যটন দফতরের কর্তাদের মুখে কার্যত কুলুপ।

সল্টলেকের ডিজি ব্লকে উদয়াচল টুরিস্ট লজ নামে ওই ভবনটি বহু পুরনো। এক সময়ে সেখানে মদের দোকান, বার, রেস্তরাঁ এবং অতিথিশালা ছিল। মদের দোকানের পাশেই ছিল পর্যটন দফতরের রান্নাঘর। তবে সংস্কারের নামে পরবর্তী সময়ে সেখানে একাধিক পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।

একটি বেসরকারি সংস্থার দাবি, ওই ভবনে ২০১৩ সালে তারা যৌথ উদ্যোগে একটি ব্যাঙ্কোয়েট চালু করে। কিন্তু ২০১৭ সালে আচমকা পর্যটন দফতর তাদের জায়গা খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

ওই ভবনের প্রাক্তন ম্যানেজার বিভুতোষ গায়েন জানান, এক সময়ে সেখানে দু’টি ব্যাঙ্কোয়েট চলত। একটি লজের পিছনের জমিতে। অন্যটি লজের ভিতরে অস্থায়ী পরিকাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হত। ২০১৮ সালের পরে অস্থায়ী কাঠামোর পরিবর্তে একটি স্থায়ী ব্যাঙ্কোয়েট নির্মাণ করা হয়। বিভুতোষের প্রশ্ন, “যেখানে দু’টি ব্যাঙ্কোয়েট থেকেই ভাল আয় হত, সেখানে একটি বন্ধ করে জমিটি ফেলে রাখা হল কেন?’’

ওই ভবনে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, অতিথিদের থাকার ঘরগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে সংস্কারের কাজ চলছে। সূত্রের খবর, বর্তমানে সেই অংশে দু’টি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতর চলছে। অন্য দিকে, মদের দোকানের পাশের একটি বড় এলাকা ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। দোকান কর্তৃপক্ষের দাবি, দু’-তিন মাস আগে ভাঙার কাজ হয়েছে। তবে প্রাক্তন কর্মীদের বক্তব্য, জায়গাটি বহু বছর ধরেই অব্যবহৃত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে পর্যটন দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “আমরা এ বিষয়ে কিছু বলার অধিকারী নই। তবে কোনও বেসরকারি সংস্থার বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিচার করা উচিত হবে না।”

ঘটনার সময় পর্যটনমন্ত্রী ছিলেন গৌতম দেব এবং প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। তবে গৌতম দেবের দাবি, এমন প্রকল্পের দেখাশোনা মূলত ওয়েস্ট বেঙ্গল টুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের আওতায় হত। তিনি বলেন, “এত পুরনো ঘটনা। নথিপত্র না দেখে কিছু বলা সম্ভব নয়। একটি প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সে সময়ে আমি টুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানও ছিলাম। পরে ইন্দ্রনীল চেয়ারম্যান হন।”

অন্য দিকে, ইন্দ্রনীল সেন বলেন, “আমি তখন প্রতিমন্ত্রী ছিলাম। আমি জানি না বিষয়টি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bidhannagar Government Land

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy