শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, শিল্প এবং উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে দেশের আগামীর দিশারী হিসেবে আইআইএম কলকাতার শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে বাড়তি উদ্যোগের শরিক হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
এমবিএ-র ৬৩তম ব্যাচের নবীন বরণের আসরে আইআইএম কলকাতার ডিরেক্টর অলোককুমার রাই শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভর হতে নতুন একটি প্রয়াসের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দু’বছরের এমবিএ পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা কোনও উদ্ভাবনী উদ্যোগ, স্টার্ট-আপ গঠনের জন্য বাড়তি একটি বছর ঘষামাজা বা চেষ্টার সুযোগ পাবেন। ওই পর্বে তখনই তাঁদের প্লেসমেন্ট বা চাকরির জন্য মাথা ঘামাতে হবে না। ওই শিক্ষার্থীরা চাইলে স্টার্ট-আপ গড়ার উদ্যোগ থেকে সরে এসে এক বছর বাদেও তাঁরা প্লেসমেন্টের জন্য নাম লেখানোর সুযোগ পাবেন।
শুক্রবার আইআইএম কলকাতার শিক্ষাপ্রাঙ্গণে নবীন বরণের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার অলোককুমার বলেন, “স্টার্ট-আপ উদ্যোগের স্বপ্ন সফল করতে প্লেসমেন্টে সুযোগের বিষয়টি এক বছর পিছনোরসুবিধাটা শিক্ষার্থীরা চাইলে নিতে পারেন। স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসার ঘটাতে বিষয়টি ভেবেছি। স্টার্ট-আপ উদ্যোগে হাত পাকিয়ে এক বছর বাদে শিক্ষার্থীরা চাকরির জগতে যেতে চাইলেও তাঁদের স্বাগত।”
৬৩তম ব্যাচে আইআইএম কলকাতার নবাগতদের মধ্যে এ বার ৪৮০ জন ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ছাত্র, ৩৩ শতাংশ ছাত্রী। দেশের ২২টি রাজ্য, দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিরা এর মধ্যে রয়েছেন। শিক্ষার্থীরা বিচিত্র পঠনপাঠনের ক্ষেত্র থেকে এসেছেন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ৫৪.৭%, বাণিজ্য শাখার ১১.৫%, বিজ্ঞানের ১০.২৭% এবং কলা শাখার ১০% তাঁদের মধ্যে রয়েছেন। ৫৯ শতাংশের আগে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলেও ৪১ শতাংশ আনকোরা।
দেশের প্রাচীনতম ম্যানেজমেন্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইএম জোকা, কলকাতা। এনআইআরএফ র্যাঙ্কিংয়ে এখন সপ্তমে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন বা সব কিছুর সঙ্গে পরিচয় করানোর অঙ্গ হিসেবে বেলুড় মঠ, হাওড়া সেতু, বিদ্যাসাগর সেতু, ইডেন গার্ডেন্স, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো দ্রষ্টব্য স্থানে সফরের সুযোগ দেওয়া হয়। কৃত্রিম মেধার রমরমার যুগে ছক-ভাঙা ভাবনায় সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে শিক্ষার্থীদের আরও ধারালো করে তোলা নিয়ে উদ্বুদ্ধ করেন নবীন বরণ অনুষ্ঠানের অতিথি বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোগীরা। আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে গাঁটছড়ায় ছ’জন মেধাবী শিক্ষার্থীর পূর্ণ বৃত্তির সংস্থান হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)