E-Paper

প্রার্থী চুরির অভিযোগ তুলছেন ঠাকরে ভাইরা

আগামী ১৫ জানুয়ারি বৃহন্মুম্বই পুরসভার ২২৭টি আসনে নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচনের আগেই ৬৮টি কেন্দ্রে কোনও দ্বিতীয় প্রার্থী না থাকায় বিনা লড়াইয়ে জিতে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৩

— প্রতীকী চিত্র।

ভোট চুরির অভিযোগের পরে এ বার বৃহন্মুম্বই পুরভোটে প্রার্থী চুরির অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর দাবি, ভয়-টাকার লোভ দেখিয়ে, প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করাচ্ছে বিজেপি। তাই যে ৬৮টি কেন্দ্রে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপি প্রার্থীরা জিতেছেন, সেখানে নতুন করে ভোটের দাবি তুলেছেন উদ্ধবেরা।

আগামী ১৫ জানুয়ারি বৃহন্মুম্বই পুরসভার ২২৭টি আসনে নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচনের আগেই ৬৮টি কেন্দ্রে কোনও দ্বিতীয় প্রার্থী না থাকায় বিনা লড়াইয়ে জিতে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। আজ দলের ইস্তাহার প্রকাশের সাংবাদিক সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরে ও মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) নেতা রাজ ঠাকরে। রাজ্যের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী চুরির পাশাপাশি মরাঠি রাজনীতির গুজরাতিকরণের অভিযোগ তুলে সরব হন দু’নেতা।

মহারাষ্ট্রে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় ক্রমশ গুজরাতি প্রার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে এবং মরাঠি অস্মিতা তথা মরাঠি পরিচয়ের অগ্রাধিকারের প্রশ্নে সওয়াল করে রাজ বলেন, ‘‘ভোটারদের নিজেদের মরাঠি পরিচয়কে মাথায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। মুম্বই-সহ যে ক’টি পুরসভায় নির্বাচন হচ্ছে, সেখানকার মেয়রদের মহারাষ্ট্রের ভূমিপুত্র হতে হবে।’’ রাজনীতিকদের মতে, এ কথা বলে মরাঠি অস্মিতাকে উস্কে দিয়ে নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ককে বার্তা দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন রাজ। পাশাপাশি পুরসভা নির্বাচনের মাধ্যমে বিজেপি যে বহিরাগত দল, সেই তত্ত্বটিই প্রমাণে তৎপর হয়েছেন উদ্ধবেরা। তাঁদের কথায়, বহু স্থানেই বিজেপির প্রার্থী হিসাবে যারা লড়ছেন, তাঁরা আসলে গুজরাতের বাসিন্দা। ছবিটি পাল্টাতে রাজ্যের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান করেছেন তাঁরা।

রাজ্যের একাধিক আসন বিজেপি বিনা লড়াইয়ে জিতে যাওয়ার ব্যাপারটা আদৌ ভাল ভাবে নেননি ঠাকরে ভাইয়েরা। এ পর্যন্ত ৬৮টি কাউন্সিলর পদে বিনা লড়াইয়ে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থীরা। কেন বিজেপি প্রার্থীরাই কেবল বিনা লড়াইয়ে জিতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। এ ক্ষেত্রে অভিযোগের আঙুল উঠেছে রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রাহুল নরওয়েকারের দিকে। অভিযোগ কোলাবা এলাকার ওই বিধায়ক নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিরোধীদের মনোনয় জমা দিতে দেননি। যে কারণে কোলাবার তিনটি ওয়ার্ড থেকে স্পিকারের ভাই, বোন ও ভগ্নীপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছেন। অবিলম্বে কোলাবায় নতুন করে নির্বাচন করানোর দাবি তুলেছেন ঠাকরে ভাইয়েরা।

রাজ ঠাকরে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনে যখন তৃণমূল একা প্রার্থী দিয়েছিল তখন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি।’’ এ ক্ষেত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন ঠাকরেরা। বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দেওয়া আটকানোর অভিযোগ নিয়ে রাজ ঠাকবে বলেন, ‘‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।বিজেপির উচিত সেটা না ভোলা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুক্তি দেখিয়ে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এক্তিয়ার নেই বিজেপির।’’ পাল্টা আক্রমণে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফডণবীস বলেন, ‘‘ঠাকরে ভাইয়েরা চাইলে আদালতে যেতেই পারেন। কিন্তু জনতার আদালতে ইতিমধ্যেই বিজেপি জিতে গিয়েছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Vote Rigging Uddhav Thackeray Raj Thackeray

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy