Advertisement
E-Paper

উর্দিধারী বনাম উর্দিধারী! সারা রাত সংঘাতের পর ভোরে ধৃত তিন কংগ্রেস কর্মীকে হিমাচল থেকে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ

রাতভর সংঘাতের পর হিমাচল প্রদেশ থেকে ধৃত তিন যুব কংগ্রেস কর্মীকে নিয়ে দেশের রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দিল দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে শিমলা জেলার রোহরু থেকে তিন অভিযুক্তকে ধরে নিয়ে গিয়েছে তারা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৫
দিল্লি পুলিশ এবং হিমাচল পুলিশের আধিকারিকদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা চলছে।

দিল্লি পুলিশ এবং হিমাচল পুলিশের আধিকারিকদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা চলছে। ছবি: সংগৃহীত।

পুলিশ বনাম পুলিশ। বুধবার দুই পুলিশের মধ্যে প্রায় বেনজির সংঘাতের সাক্ষী ছিল হিমাচল প্রদেশ। রাতভর সেই সংঘাতের পর হিমাচল প্রদেশ থেকে ধৃত তিন যুব কংগ্রেস কর্মীকে নিয়ে দেশের রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দিল দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে শিমলা জেলার রোহরু থেকে তিন অভিযুক্তকে ধরে নিয়ে গিয়েছে তারা।

দিল্লির আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলনে ঢুকে খালি গায়ে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে। সম্মেলনে খালি গায়ে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে বুধবার হিমাচল প্রদেশ থেকে আরও তিন জন কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। তা নিয়ে অশান্তি বাধে কংগ্রেস-শাসিত হিমাচলের পুলিশ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রাণাধীন দিল্লি পুলিশের মধ্যে।

বিনা অনুমতিতে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে কী ভাবে ওই তিন জনকে হিমাচল থেকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সরব হয় সে রাজ্যের পুলিশ। দিল্লি পুলিশের তিনটি গাড়ি আটক করে তারা। সূত্র মারফত জানা যায়, হিমাচল পুলিশ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা রুজু করে ২০ জন পুলিশকর্মীকে আটক করে। শিমলা এবং দিল্লি পুলিশ উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলে।

বুধবার দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল হিমাচলের রোহরু থেকে সৌরভ, সিদ্ধার্থ এবং আরবাজ় নামে তিন কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল। অভিযোগ, ধৃতদের নিয়ে দিল্লি ফেরার সময়, হিমাচল পুলিশ শোগি সীমানায় তাদের গাড়ি আটকে দেয়। হিমাচল পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, দিল্লি পুলিশ স্থানীয় থানাকে না জানিয়ে এবং কোনও আইনি নথি বা ট্রানজ়িট রিমান্ড ছাড়াই তিন জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছিল। হিমাচল পুলিশ দিল্লি পুলিশের ২০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে অপহরণের মামলাও রুজু করে।

অন্য দিকে, দিল্লি পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, তারা নিয়ম মেনেই স্থানীয় আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ড পেয়েছিল। কিন্তু হিমাচল পুলিশ তদন্তে বাধা দিচ্ছে এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে তাদের আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২০ ফেব্রুয়ারি কৃত্রিম মেধা সম্মেলন (এআই ইমপ্যাক্ট সামিট) চলাকালীন দিল্লির ভারত মণ্ডপমের ভিতরে প্রবেশ করে জামা খুলে বিক্ষোভ দেখান যুব কংগ্রেসের কয়েক জন কর্মী। তাঁদের জামায় যেমন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনা লেখা ছিল, তেমনই ছিল ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য-সমঝোতারও সমালোচনা। নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তাঁরা। বস্তুত, ওই সময়ে কৃত্রিম মেধা সম্মেলনের জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অতিথিরা ভারত মণ্ডপমে উপস্থিত ছিলেন। যুব কংগ্রেসের এমন বিক্ষোভ নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছে দিল্লির আদালত। সেই ঘটনায় যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয়ভানু চিবকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে যে সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শুরুতেই ধরা পড়েন চার জন। সোমবার মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়র থেকে পাকড়াও করা হয় আরও তিন জনকে। উত্তরপ্রদেশ যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হৃতিক ওরফে মন্টি শুক্লকেও ললিতপুর থেকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ।

Delhi Police himachal pradesh Himachal Congress
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy