E-Paper
WBState_Assembly_Elections_Lead0_03-05-26

ধর্মীয় স্বাধীনতা নৈতিকতা এবং জনশৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে নয়: কোর্ট

মামলাকারী তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে জমায়েত করে নমাজ পড়তে চান জানিয়ে, প্রথমে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন। কিন্তু প্রশাসন তাঁর দাবি খারিজ করে দেয়।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ০৯:২৭

—প্রতীকী চিত্র।

সরকারি জমি ধর্মাচরণে স্থায়ী ভাবে ব্যবহার করা যাবে না বলে জানাল ইলাহাবাদ হাই কোর্ট। উত্তরপ্রদেশের সম্ভলের ইকোন গ্রাম সংলগ্ন একটি জমিতে নমাজ পড়ার জন্য আদালতের অনুমতি চেয়েছিলেন আসিন নামে এক ব্যক্তি। সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সরল শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি গরিমা প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ভারতের সংবিধান যে কোনও মানুষকে ধর্মাচরণের স্বাধীনতা দেয়। তবে সেই সুযোগে কেউ জনস্বার্থ বা সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতেপারেন না।

মামলাকারী তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে জমায়েত করে নমাজ পড়তে চান জানিয়ে, প্রথমে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন। কিন্তু প্রশাসন তাঁর দাবি খারিজ করে দেয়। মামলা গড়ায় আদালতে। আদালতে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, নিজের জমিতে নমাজ পড়ায় বাধা দিচ্ছে প্রশাসন। মামলাকারী ওই জমি সংক্রান্ত ২০২৩ সালের একটি দানপত্রের নথিও আদালতে পেশ করেন। তাঁর বক্তব্য, নিজের জমিতে ধর্মাচরণের জন্য কেন তাঁকে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। এর পাল্টা উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়, সরকারি রেকর্ডে ওই জমি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য নথিভুক্ত। রাজ্য সরকার আরও জানিয়েছে, ওই জমিতে শুধুমাত্র ইদের নমাজ পড়ার অনুমতি ছিল। স্থায়ী ভাবে বা বার বার সেখানে নমাজ পড়লে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকার এ-ও দাবি করে, মামলাকারী ওই জমির মালিকানার সপক্ষে জোরাল কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি।

এর পরে বিচারপতি গরিমা প্রসাদ ও বিচারপতি সরল শ্রীবাস্তবের বেঞ্চ ওই ব্যক্তির আর্জি খারিজ করে দেয়। আদালত জানিয়েছে, ব্যক্তিগত উপাসনা এবং সংগঠিত ধর্মীয় জমায়েতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, সরকারি জমি ধর্মীয় কার্যকলাপের জন্য স্থায়ী ভাবে দখল করা যায় না। তা ছাড়া কোনও ধর্মীয় জমায়েতে অশান্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে জনস্বার্থ ও শৃঙ্খলার খাতিরে রাষ্ট্র তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। আদালত এ-ও জানিয়েছে, সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ধর্মীয় স্বাধীনতা কখনওই জনস্বাস্থ্য, নৈতিকতা এবং জনশৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে নয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Court Order

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy