Advertisement
E-Paper

পাসপোর্ট কি তবে নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়? রয়েছে লিখিত ব্যাখ্যা, মোদী সরকারকে তোপ বিরোধীদের

কেন্দ্রের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট কোনও দিনই নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ছিল না। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্ট আইনের বিধির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৬:২৯

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্রের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট কোনও দিনই নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ছিল না। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্ট আইনের বিধির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যদিও তার পরেও বিতর্ক থামেনি। বুধবার একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে পাসপোর্ট বেড়াতে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিমাত্র। নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তার পরেই বিতর্কের সূত্রপাত। বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল সমাজমাধ্যমে লেখেন, “তা হলে কোন নথি দেখালে নাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারব? এর পর বিএলও আমার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। আমি ভোটাধিকার হারাতে পারি। আর এর ফলে বিজেপি নির্বাচনে জিতে যাবে।” শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা তথা উদ্ধব ঠাকরের পুত্র আদিত্য ঠাকরের প্রশ্ন, পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্বের নথি না-হয়, তবে এটি দেওয়ার আগে পুলিশ আবেদনকারীর ঠিকানা খতিয়ে দেখে কেন? কেন্দ্রের মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র লেখেন, “এটাই মনে হচ্ছে যে, নাগরিকত্ব প্রমাণের উপায় হচ্ছে হিন্দু এবং বিজেপির ভোটার হতে হবে।”

বিতর্কের আবহে এখনও মুখ খোলেননি কেন্দ্র বা বিদেশ মন্ত্রকের কোনও আধিকারিক। তবে কেন্দ্রের ওই সূত্রের তরফে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইনের ৬(২)(এ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, ভারতের নাগরিক না-হলে কাউকে পাসপোর্ট না-ও দিতে পারেন কর্তৃপক্ষ। আবার ২০ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে’ ভারতের নাগরিক নন, এমন ব্যক্তিকেও পাসপোর্ট দেওয়া হতে পারে।

তা ছাড়া পাসপোর্ট যিনি পাচ্ছেন, তিনি তার অধিকারী নন। খাতায়কলমে সেটি সরকারের সম্পত্তি। পাসপোর্টেও তার উল্লেখ থাকে। তাই সরকারের নির্দেশে যে কোনও সময় যে কোনও ব্যক্তি পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিতে বাধ্য। ফলে পাসপোর্ট কোনও অবস্থাতেই নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি নয়। ২০১৩ সালে বম্বে হাই কোর্ট জানিয়েছিল, কেউ যদি ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের পর জন্মগ্রহণ করেন, তবে তাঁর জন্মের শংসাপত্র, পাসপোর্ট কিংবা আধার কার্ড নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

ভারতে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনও পরিচয়পত্র বা নথি নেই। কোনও ব্যক্তির ঠিকানা যাচাই করতে আধার কার্ড ব্যবহৃত হলেও সেটি নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি নয়। প্যান কোনও ব্যক্তির আয়ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবহৃত হলেও এটি নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি নয়। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় কারও নাম না-থাকলেই তিনি নাগরিকত্ব হারিয়েছেন, এমন মনে করার কারণ নেই। এই যুক্তিতে এপিক বা ভোটার কার্ডও নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি নয়। এখনও পর্যন্ত এ দেশে কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য সাধারণত একাধিক নথি (জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট, মাধ্যমিকের শংসাপত্র) খতিয়ে দেখা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে দেখা হয় বংশলতিকাও। কেন্দ্রের ওই সূত্রটির দাবি, পাসপোর্ট নিয়ে সরকার নতুন করে কোনও বিধি তৈরি করেনি। আগে যা নিয়ম ছিল, তা-ই রয়েছে।

MEA passport

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy