পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তরের পদাধিকারীদের তালিকায় রয়েছেন একমাত্র অনুপম হাজরা। লোকসভার আগে তাই দলের জাতীয় সচিব অনুপমের কাছেই রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের পরিস্থিতি জানতে চেয়ে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সূত্রের মতে, রাজ্য নেতৃত্বের পাঠানো রিপোর্ট নিয়ে অতীতে প্রশ্ন ওঠায় নিরপেক্ষ রিপোর্ট পেতেই অনুপমকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পুরনো কর্মীদের বসে যাওয়া, বাড়িয়ে-চড়িয়ে রিপোর্ট দেওয়া নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এ নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অসন্তোষ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এ দিকে বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেও পঞ্চায়েত ভোটে আশানুরূপ ফল হয়নি। তবু রাজ্যে লোকসভায় অন্তত ২৫টি আসনে জেতার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে বিজেপি। সেই লক্ষ্য পূরণে রাজ্য নেতৃত্ব আদৌ কতটা প্রস্তুত, সেই ছবিটি স্পষ্ট নয় জেপি নড্ডা-অমিত শাহদের কাছে। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে দলে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকায় সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যায় না। ফলে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করাও সম্ভব হয় না।’’ বাংলা জয়ের ব্যাপারে তাই প্রতি বার মুখ পোড়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।
অন্যান্য রাজ্যের মতোই পশ্চিমবঙ্গে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বুথ কমিটি গঠনের কাজ চালু রয়েছে। রাজ্যে প্রায় ৮০ হাজার বুথ রয়েছে। যার মধ্যে মুসলিম অধ্যুষিত বুথ বাদ দিলেও যে প্রায় ৬০ হাজার বুথ রয়েছে, তাতেও ২০ থেকে ২৫ শতাংশের বেশি বুথ কমিটি তৈরি হয়নি বলে জানতে পেরেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অথচ রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, ৯০ শতাংশ বুথে বুথ কমিটি গঠনের কাজ হয়ে গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, পরস্পরবিরোধী ওই তথ্যের ফলে বাস্তবের মাটিতে পরিকল্পনা রূপায়ণে সমস্যা হচ্ছে দলের। এ ছাড়া দলের পুরনো কর্মী যাঁরা বিভিন্ন কারণে বসে গিয়েছেন, তাঁদের ফের সক্রিয় করার ক্ষেত্রে যতটা উদ্যোগী হওয়া দরকার ছিল, তা হয়নি বলেই মনে করছেন নড্ডারা। ফলে লোকসভায় দলের ফল কতটা ভাল হবে, তা নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই আবহে রাজ্যে দলের সাংগঠনিক ছবিটি জানতে অনুপমকে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সূত্রের মতে, ওই রিপোর্ট একেবারে জে পি নড্ডাকে জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিটি লোকসভায় দলের পরিস্থিতি কেমন, কত শতাংশ বুথ কমিটি গড়া হয়েছে, জেতার সম্ভাবনা, বসে যাওয়া পুরনো কর্মীরা আদৌ সক্রিয় হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখে লোকসভাকেন্দ্র-ভিত্তিক রিপোর্ট জমা দেবেন অনুপম। সূত্রের মতে, দুর্গাপুজোর আগেই ওই রিপোর্ট জমা পড়বে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অনুপম নিজে বলেন, ‘‘দলের সাংগঠনিক কাজের বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলা সম্ভব নয়।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)