বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মামলার তদন্তভার নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। রাজধানীতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের একটি বড় চক্রের হদিস মেলার পরই দিল্লি পুলিশ সেই অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে দিল্লি জুড়ে অভিযানে নামে। এ বার সেই মামলার তদন্তভার নিল এনআইএ।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই মামলার তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। নতুন করে এফাইআর দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশের পরই তদন্তভার নিল এনআইএ। অনুপ্রবেশকারীদের সংগঠিত অপরাধের কোমর ভেঙে দিতেই এই সিদ্ধান্ত। ওই সূত্রের দাবি, যে ভাবে দিল্লিতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা ছড়িয়ে পড়েছেন, তা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ফলে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হল।
আরও পড়ুন:
দিল্লি পুলিশ এই অনুপ্রবেশের ঘটনাকে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছিল। তার পর থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু করে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। কী ভাবে সংগঠিত কৌশলে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা দিল্লিতে এসে আশ্রয় নিচ্ছে, কী ভাবে, কোন কোন কৌশলে অনুপ্রবেশকারীদের থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েই মূলত তদন্ত শুরু করেছিল দিল্লি পুলিশ। এনআইএ তদন্তভার হাতে পাওয়ায় তারা এখন আন্তঃরাজ্য, সীমান্ত সংযোগ, কী ভাবে অর্থ জোগানো হত, কত বড় ষড়যন্ত্র এর নেপথ্যে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পারে বলে সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে অভিযান চালিয়ে ১২১ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। ধৃতেরা সকলেই তিন বছর ধরে এ দেশে রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়। আলিপুর, বাওয়ানা, নারেলা, স্বরূপনগর, শাহবাদ ডেয়ারির মতো শিল্পাঞ্চল এলাকাগুলি থেকে ৮৩১ জন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সকলেই মূলত পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের নথিপত্র পরীক্ষা করার পরে ১২১ জনকে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। জানা যায়, ভুয়ো পরিচয়পত্র ইত্যাদি দিয়ে বছরের পর বছর ধরে রয়েছেন একশোর বেশি বাংলাদেশি। এঁরা সকলেই অবৈধ ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকেন বলে অভিযোগ।