পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ছে। কখনও ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা হামলা চালাচ্ছে, আবার কখনও পাল্টা আক্রমণ করছে ইরানও। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক করল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তার অবনতি ঘটেছে। সাধারণ নাগরিকদের প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সকলকে চোখ-কান খোলা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নয়াদিল্লির পরামর্শ, প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বার হবেন না। যাতায়াত সীমিত করুন। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত জানিয়েছে, ইরান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হয়েছে। সব পক্ষকে সংযত থাকার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য কয়েক দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। দূতাবাসগুলির জরুরি হেল্পলাইন নম্বর সক্রিয়। যে কোনও প্রয়োজনে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইজ়রায়েল ও ইরানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের ‘সর্বাধিক সতর্কতা’ অবলম্বন করতে হবে। নিরাপত্তা প্রোটোকল সঠিক ভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নয়াদিল্লির তরফে আরও বলা হয়েছে, ‘‘যে সব দেশে উচ্চ সতর্কতা জারি হয়েছে বা যুদ্ধ পরিস্থিতি রয়েছে, সে সব অঞ্চলের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইজ়রায়েলে বসবাসকারী সকল ভারতীয়কে সতর্ক এবং সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’’ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ‘‘পরবর্তী নির্দেশিকা না দেওয়া পর্যন্ত ওই সব অঞ্চলে অযথা যাওয়া যাবে না। স্থানীয় সংবাদ, সরকারি ঘোষণা, জরুরি অ্যালার্টও খেয়াল রাখতে হবে।’’ যদিও কোনও ভারতীয় নাগরিক তাঁদের নিকটবর্তী দূতাবাসে নিজেদের নাম নথিভুক্ত না-করে থাকেন, তবে অবিলম্বে সেই কাজ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে সেই সুবিধা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত। অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলি আলোচনা এবং কূটনৈতিক ভাবে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘সব দেশের উচিত অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা।’’
প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল থেকেই তেহরান-সহ ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে একযোগে হামলা শুরু করে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। দুপুরের পর থেকে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরানও। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বাহিনী তেহরানে হামলার পরই গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সামরিক উত্তেজনা। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সেনাছাউনি রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, সেই সেনাঘাঁটিগুলিকেই লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। একই সঙ্গে আমেরিকার অন্তত ছয় বন্ধু দেশে হামলা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় বিমান চলাচলের উপর কড়া নজর রেখেছে নয়াদিল্লি। ইরান আগেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ ইজ়রায়েলের আকাশসীমাও। পরে রয়টার্স জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, ইরাক, কুয়েত এবং কাতারও নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দেশের বিমানবন্দরগুলিকে সেই বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ দেশের বিমান সংস্থাগুলির উদ্দেশে নির্দেশিকা জারি করেছে। সৌদি আরব, ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ার ১১টি দেশের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ মার্চ, সোমবার পর্যন্ত আপাতত এই নির্দেশিকা জারি থাকছে।