‘উন্নত আমেরিকা’ গড়ার লক্ষ্যে মার্কিন অভিবাসন নীতি প্রয়োগের পরে অভিবাসীদের দেশ থেকে বহিষ্কার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। হাতকড়া পরিয়ে সামরিক বিমানে করে বহিষ্কারের ছবিও দেখা গিয়েছে বেশ কয়েক বার। রেহাই পাননি ভারতীয়রাও। কত জন ভারতীয়কে সে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় তার তথ্য দিল কেন্দ্রীয় সরকার।
বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ৩ হাজার ৪১৪ জন ভারতীয়কে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বহিষ্কার ইস্যুতে আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই আলোচনা করে ভারত সরকার। তাঁর আরও দাবি, বহিষ্কারের এই ধরনের ঘটনায় ওই নাগরিক ভারতীয় কি না সেই পরিচয় জানতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। তবে তিনি মেনে নিয়েছেন, আমেরিকায় গিয়ে ট্রাক বা ওই জাতীয় গাড়ি চালান এমন নাগরিকদের সরকারি তথ্য তাঁর কাছে নেই।
প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের তরফে রণদীপ সিংহ সূরজওয়ালা জানতে চেয়েছিলেন, গত পাঁচ বছরে আমেরিকা-সহ অন্যান্য দেশ থেকে বহিষ্কৃত ভারতীয়ের সংখ্যা, অবৈধ ‘ডাঙ্কি রুট’ দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে।
আরও পড়ুন:
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের তরফে আমেরিকার প্রশাসনের সঙ্গে বার বার আলোচনা করে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে মানবিক হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। নারী ও শিশুদের পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ ছিল। তাঁর দাবি, ভারতীয় অভিবাসীদের হেনস্থার খবর পেয়ে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক মামলা দায়ের করেছে। তার মধ্যে অনেক মামলা এজেন্ট-সহ বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে। ভিন্ দেশের নাগরিকত্ব দেওয়া, চাকরির টোপের নেপথ্যে মানবপাচার চক্র আছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রীর দাবি, এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে তদন্ত চলছে। সরকারের ই-মাইগ্রেট পোর্টালে ৩ হাজার ৫০৫ জন নিবন্ধিত নন এমন এজেন্টের নাম উল্লেখ করেও সতর্ক করা হয়েছে।
২০২৫ সালের সৌদি আরব, আরব আমিরশাহি থেকে ২২ হাজার ৮১৪ জন ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। মায়ানমার থেকে বহিষ্কৃত ১ হাজার ৬০৫ জন। আমেরিকা থেকে বহিষ্কৃত ৩ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি। তবে কম্বোডিয়া থেকে ১ হাজার ৩০০ ও লাওস, মায়ানমার থেকে যথাক্রমে ১ হাজার ৪২১ ও ১ হাজার ৫৯৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।