এক দিনে সব জেলায় সাংবাদিক বৈঠক করে দরাজ বাজেট প্রচারের কৌশল নিল তৃণমূল। বিধানসভায় অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশের পরই রাজ্য জুড়ে বাজেটের সুফল নিচুতলায় পৌঁছে দিতে সক্রিয় হচ্ছে শাসকদল। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিধানসভায় যে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছে, তার পর দিনই এক দিনে সব জেলায় সাংবাদিক বৈঠক করার কৌশল নিল শাসকদল। দলের জেলা সভাপতি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সাংসদ, বিধায়ক ও পুরসভার চেয়ারম্যানদের সামনে রেখে বাজেটের বিভিন্ন ঘোষণা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বছরের অন্তর্বর্তী বাজেটে একাধিক জনকল্যাণমূলক ঘোষণার করা হয়েছে। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে উপভোক্তাদের জন্য মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা ৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন মাসে ১,০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করার কথাও বাজেটে উল্লেখ রয়েছে। আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের ভাতাও মাসে ১,০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
মাধ্যমিক পাশ বেকারদের জন্য ‘বাংলার যুবসাথী’ নামে নতুন ভাতা চালুর ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শিক্ষাবন্ধুদের ভাতাও মাসে ১,০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ার ও গ্রিন পুলিশদের বেতন বৃদ্ধির জন্য মোট ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
রাজ্য সরকারি পেনশনভোগীদের জন্যও বিশেষ সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা পশ্চিমবঙ্গ হেল্থ স্কিমের আওতায় ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা পান। নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হলে তার ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস পরিষেবার আওতায় আসবে। পাশাপাশি সপ্তম পে কমিশনের ঘোষণাও করেন রাজ্যের অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
এই সব ঘোষণাকে ভোটের আগে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে তৃণমূল। তাই বাজেটের পর দিনই রাজ্য জুড়ে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে প্রচারে জোর দেওয়া হয়েছে। বহরমপুরে সাংবাদিক বৈঠকে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যে জনমুখী বাজেট করেছেন, তা আমাদের দায়িত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। বাজেট থেকে মানুষ কী কী সুফল পাবেন, তা সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে জানানোই আমাদের লক্ষ্য।”