২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট (ভোট অন অ্যাকাউন্ট) পেশ করেছে রাজ্য সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সেই বাজেটকে ‘নির্বাচনী ইস্তাহার’ বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্য বাজেটে অন্যতম কৌতূহল ছিল লক্ষ্মীর ভান্ডারের অর্থবৃদ্ধি। প্রত্যাশা মতো বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারের অর্থ মাসে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই তা কার্যকর হবে। অর্থাৎ, মার্চ মাসের গোড়াতেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের বর্ধিত অর্থ সরাসরি পৌঁছে যাবে ২ কোটিরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে। এই ঘোষণাকে ভোটের দিকে তাকিয়েই করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, ‘‘ভোট ব্যাঙ্ক ধরে রাখতেই আইপ্যাকের পরামর্শে এই ঘোষণা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করা হচ্ছে।’’ শুভেন্দুর সংযোজন, ‘‘গোয়ার নির্বাচনের সময়ে বলেছিলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডারে ৫ হাজার টাকা দেবেন। বাংলায় তা হল না কেন?’’ এক ধাপ এগিয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘বিজেপির সরকার এসে ১ জুন থেকে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা দেবে। অঙ্ক বাড়বে, তবু কমবে না।’’
আরও পড়ুন:
লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে শুভেন্দু যা বলেছেন, প্রায় এক সুর শোনা গিয়েছে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথাতেও। সুজন বলেন, ‘‘গোয়ায় গিয়ে তো বলেছিলেন ৫ হাজার টাকা করে দেবেন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করলেন না কেন? অন্তত ৩ বা ৪ হাজার টাকা তো দিতে পারতেন!’’
পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘গোয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার যে ফারাক তা বিজেপি এবং সিপিএম জানে না। দুটো রাজ্যের কর কাঠামো সম্পর্কেও কোনও ধারণা নেই। তা-ই এ সব বলছে। আর ওঁদের তো দিতে হবে না। এটা মমতাদির প্রকল্প। তিনিই দিচ্ছেন। ওঁরা কেন সময় নষ্ট করছেন? ক্ষমতা থাকলে নিজেদের সমর্থকদের বলুন, প্রকল্প গ্রহণ না-করতে।’’
আরও পড়ুন:
দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে রাজ্য বাজেট নিয়ে কটাক্ষ করেছেন পদ্মশিবিরের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘এই সরকার একটা জীবন্ত জীবাশ্ম। এদের ঘোষণায় কী আসে যায়! সুপ্রিম কোর্ট পুরনো বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতে বলেছে। আগে সেই সংক্রান্ত নির্দেশ কার্যকর করুক।’’
রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, মাধ্যমিক পাশ করা ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকারদের মাসে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাঁচ বছর পর্যন্ত এই অর্থ পাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তার মধ্যেই চলবে কর্মসংস্থানে যুক্ত করার প্রক্রিয়া। সেই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘যুবসাথী’। শুভেন্দুদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার আগেই ‘যুবশ্রী’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছিল। তারই নামবদল করে ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আগামী অগস্ট থেকে কার্যকর করা হবে। বিরোধী দলনেতার কটাক্ষ, ‘‘তখন তো এই সরকারটাই থাকবে না।’’