সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
বাজেট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের ডিএ সংক্রান্ত নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, ‘‘রায়ের কপি এখনও আমরা হাতে পাইনি। সেটা পড়ে দেখতে হবে। রায় নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। যে কমিটি গড়ার কথা বলা হয়েছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা আছেন। পশ্চিমবঙ্গের কোনও প্রতিনিধি নেই। আমরাও মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিঠি গঠন করেছি। তাঁদের মতামত অনুযায়ী কাজ করব।’’
কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বিতর্কে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের প্রসঙ্গ টেনেছেন মমতা। বলেছেন, ‘‘আর কোনও রাজ্যে পেনশন দেওয়া হয় না। পশ্চিমবঙ্গে যা পাওয়া যায়, আর কোথাও পাওয়া যায় না। পেনশন বন্ধ করে দিলে আমার অনেক টাকা বেঁচে যেত। কিন্তু যাঁরা পেনশনের উপর নির্ভরশীল, তা হলে তাঁরা কী করবেন?’’
রাজ্য বাজেটে আগামী অগস্ট থেকে বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা নিয়ে মমতাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে মাধ্যমিক পাশ বেকারদের পাঁচ বছরের জন্য আমরা ১৫০০ টাকা করে দেব। তাঁরা যে স্কলারশিপ পান, তা যেমন ছিল তেমনই থাকবে।’’
মমতা বলেন, ‘‘আপনারা দেখেছেন, কেন্দ্রীয় বাজেট দিশাহীন, ভবিষ্যৎহীন, কর্মহীন। আমরা এখন গর্ব করে বলতে পারি, আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মধ্যে এই বাজেট তৈরি করতে পেরেছি। এত কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও এটা করতে পেরেছি। আশা করি, মানুষ আমাদের উপর ভরসা রাখবে। আমি একা কিছু করিনি। সকলে মিলে করেছি। প্রত্যেক এজেন্সির লাঞ্ছনা সত্ত্বেও আমরা লড়ে যাচ্ছি। মানুষের ভরসা আছে আমাদের সঙ্গে।’’
পশ্চিমবঙ্গের উপর কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার উল্লেখ করে শুয়োরানি-দুয়োরানির গল্পের কথা টেনেছেন মমতা। বলেন, ‘‘বাংলাকে ওরা বঞ্চনা করেই চলেছে। যেখানে পারছে, বাংলাদেশি বলে মারধর করে দিচ্ছে। অন্তঃসত্ত্বাকেও ছাড়া হচ্ছে না। কোনও টাকাই দিচ্ছে না। শুধু নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত।’’
মমতা বলেন, ‘‘এত দিন রাজ্যে ৯৪টি প্রকল্প ছিল। আজ মনে হয় আরও পাঁচ-ছ’টি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। সুতরাং সেঞ্চুরি হয়ে গেল।’’
মমতা জানান, তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্য জুড়ে অনেক রাস্তা তৈরি হয়েছে। সর্বত্র পানীয় জলের সরবরাহ আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।
মমতা জানান, কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, বেকারত্ব ৪৫.৬৫ শতাংশ কমেছে পশ্চিমবঙ্গে। তাঁর কথায়, ‘‘এর জন্য আমরা সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। এর মধ্যে আমরা ১ কোটি ৭২ লক্ষের বেশি মানুষকে দারিদ্রসীমা থেকে বার করে এনেছি।’’ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাজেট প্রস্তাব পেশের পর কেন্দ্রীয় সরকারি বাজেটকে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছু দিন আগে কেন্দ্রের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য তেমন কোনও বরাদ্দের ঘোষণা ছিল না বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আমরা এত বঞ্চনা সত্ত্বেও এই বাজেট করলাম। কেন্দ্র তো বাংলাকে কিছুই দিল না।’’ কেন্দ্রের কাছে এখনও রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মমতা।
বাজেটের অর্থনৈতিক দিকগুলি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত মিত্র। জানান, রাজ্য বাজেটের পরিমাণ ৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। একে অভূতপূর্ব বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বাজেট প্রস্তাব পেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাশে বসে বাজেটের অর্থনৈতিক দিকগুলি ব্যাখ্যা করছেন অমিত মিত্র।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্য বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের বরাদ্দ। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ, আশাকর্মীদের ভাতা, সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy