সিভিক ভলেন্টিয়ার তুলসী রাও ওরফে উদয় খুনে সর্বশেষ অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করল খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ। মহারাষ্ট্রের ঠাণেতে পালিয়ে গিয়ে কাজও শুরু করেছিলেন। তাতেও নিস্তার মেলেনি। বুধবার সন্ধ্যায় ঠাণে থেকে অভিযুক্ত মহম্মদ জাভেদকে ধরে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে চার দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে খড়্গপুর নিয়ে আসা হয়।
এর আগে এই খুনের মামলায় পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাঁরা জেল হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন খড়্গপুরের এসডিপিও ধীরজ ঠাকুর। সেই সঙ্গেই জাভেদকে শুক্রবার খড়্গপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গত ১৬ ডিসেম্বর ভোরে খড়্গপুর স্টেশন সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে চা খেতে গিয়ে একদল মত্ত যুবকের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে প্রহৃত হয়েছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের অধীন খড়্গপুর টাউন থানায় কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ার তুলসী। গত ২৭ ডিসেম্বর, ওড়িশার কটকের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় উদয়ের। ঘটনা ঘিরে উত্তাল হয় রেল শহর খড়্গপুর। টাউন থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। ঘটনায় মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে খড়্গপুর টাউন থানায় এফআইআর দায়ের হয়।
১৬ ডিসেম্বরই পুলিশ গ্রেফতার করে মূল অভিযুক্ত শেখ শারফুদ্দিন এবং রাহুল শ্রীবাস্তবকে। পরে একে একে গ্রেফতার করা হয় রৌশন সাহু, রোহন শঙ্কর এবং সোনু সোনকারকে। আর এক অভিযুক্ত মহম্মদ জাভেদ সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান মহারাষ্ট্রে। তবে ওঁত পেতে ছিল পুলিশ। জাভেদের বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-পরিজনদের ফোনে আড়ি পাতা শুরু করে পুলিশ।
শেষমেশ খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ জানতে পারে, মহারাষ্ট্রের ঠাণে এলাকায় এল অ্যান্ড টি সংস্থায় কাজ করতে শুরু করেছে জাভেদ। গত প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে সেখানেই ছিলেন জাভেদ। বুধবার সন্ধ্যায় নিজের কর্মস্থলের সামনেই একটি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময়ই তাঁকে খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ পাকড়াও করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেসে চাপিয়ে তাকে আনা হয় খড়্গপুরে। খড়্গপুরের এসডিপিও ধীরজ জানান, এসআই দীপক নস্করের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দলকে এই অভিযানে পাঠানো হয়েছিল।