Advertisement
E-Paper

বাজেটে বেতন বৃদ্ধি ৫ হাজার টাকা, সন্তুষ্ট নন রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকেরা! তুলছেন ‘সঙ্কল্পচ্যুতি’র অভিযোগ

বর্তমানে উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষকেরা বেতন পান মাসিক ১৫,০৭১ টাকা (হাতে পান প্রায় ১৩,১৪১ টাকা)। প্রাথমিকের পার্শ্বশিক্ষকদের দেওয়া হয় মাসিক ১১,৫৯৩ টাকা (হাতে পান প্রায় ১০,০৯২ টাকা)। এই অর্থে ২০২৬-এ ক্ষুণ্ণিবৃত্তি অসম্ভব বলেই দাবি পার্শ্বশিক্ষকদের একাংশের। সোমবারের বাজেট ঘোষণার পর উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষকেরা পাবেন প্রায় ১৮ হাজার টাকা, প্রাথমিকের শিক্ষকেরা প্রায় ১৫ হাজার টাকা। আর এখানেই আপত্তি পার্শ্বশিক্ষকদের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১৫:৫৯

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে পড়িয়ে পেতেন ১৫ হাজার টাকা। প্রাথমিক স্কুলে ১১ হাজার। সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী জানালেন, সকলেরই মাসিক ৫ হাজার টাকা করে বেতন বৃদ্ধি হবে। কিন্তু এই ঘোষণায় খুশি নন পার্শ্বশিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, প্রায় ২২ বছর তাঁরা কাজ করছেন, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই বৃদ্ধি তাঁদের সন্তুষ্ট করার পক্ষে যথেষ্ট নয়।

প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে প্রায় ৪০ হাজার পার্শ্বশিক্ষক রয়েছেন গোটা রাজ্যে। ক্ষমতার পালাবদলের পর বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে তাঁদের জন্য বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তাতে সমকাজে সমবেতনের দাবি পূরণ হল কই? প্রশ্ন তুলছেন পার্শ্বশিক্ষকেরা।

স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ২০০৪-এ তৎকালীন সর্বশিক্ষা মিশনের প্রকল্পের আওতায় স্কুলে স্কুলে পার্শ্বশিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়। সে সময় এই চাকরি ছিল পুরোটাই বার্ষিক চুক্তিভিত্তিক। ২০১০-এ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার ওই শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ ৬০ বছর করে দেয়। কিন্তু চাকরির ধরন বদলায়নি। চুক্তির ভিত্তিতেই তাঁরা কাজ করছেন গত ২২ বছর। তার ফলে স্থায়ী শিক্ষকদের মতো আর্থিক সুযোগসুবিধা তাঁরা এখনও পান না।

পার্শ্বশিক্ষকদের অভিযোগ, প্রাথমিক ভাবে তিন বছর অন্তর ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। ২০১৮-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার ৫ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধি করে। সে বছর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির নিয়ম।

এর ফলে ২০১৯ থেকে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন পার্শ্বশিক্ষকেরা। পার্শ্বশিক্ষকদের সংগঠন নিখিলবঙ্গ পার্শ্বশিক্ষক সমিতির সভাপতি মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আন্দোলনের জেরেই ২০২০ থেকে বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে বেতনবৃদ্ধি শুরু করে তৎকালীন তৃণমূল সরকার। মধুমিতার দাবি, ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি সঙ্কল্পপত্র প্রকাশ করেছিল। সেখানে উল্লেখ ছিল, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিজেপি সরকার সমকাজে সমবেতনের দাবি পূরণে প্রয়াসী হবে। অথবা, চেষ্টা করা হবে যাতে প্রতিবেশী ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের অধীন রাজ্যগুলির পার্শ্বশিক্ষকদের মাসিক বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি করা হবে।

মধুমিতা বলেন, “বাস্তবে তো সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রয়াস দেখা গেল না। ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে পার্শ্বশিক্ষকেরা ৩২ হাজার, হরিয়ানায় ৫২ হাজার টাকা বেতন পান। সংকল্পপত্রের উল্লেখের সঙ্গে তো ঘোষণার মিল হল না। তা হলে তো সংকল্পের বিচ্যুতি ঘটল।’’

হিসাব বলছে, বর্তমানে উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষকেরা বেতন পান মাসিক ১৫,০৭১ টাকা (হাতে পান প্রায় ১৩,১৪১ টাকা)। প্রাথমিকের পার্শ্বশিক্ষকদের দেওয়া হয় মাসিক ১১,৫৯৩ টাকা (হাতে পান প্রায় ১০,০৯২ টাকা)। এই অর্থে ২০২৬-এ ক্ষুণ্ণিবৃত্তি অসম্ভব বলেই দাবি পার্শ্বশিক্ষকদের একাংশের। সোমবারের বাজেট ঘোষণার পর উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষকেরা পাবেন প্রায় ১৮ হাজার টাকা, প্রাথমিকের শিক্ষকেরা প্রায় ১৫ হাজার টাকা। আর এখানেই আপত্তি পার্শ্বশিক্ষকদের।

এ প্রসঙ্গে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (বিদ্যালয় শাখা) রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক বলেন, ‘‘সরকারের কাছে আমাদের দাবি ছিল, মাসিক বেতন অন্তত ২০ হাজার করা হোক। আমরা আশাবাদী, ধাপে ধাপে অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। অন্য রাজ্যের থেকে এখনও অনেকটাই কম, তা ঠিক। কিন্তু একবারেই তো তাদের সমতুল করে দেওয়া সম্ভব নয়।”

Para Teacher
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy