Advertisement
E-Paper

বাজেটে ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা ঘোষণা, ‘মন্দের ভাল’ বলে দাবি শিক্ষামহলের একাংশের

বর্তমানে সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পান। অর্থাৎ, ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির পর এর পরিমাণ বেড়ে হল ৩৮ শতাংশ। ১ অক্টোবর থেকে এই বর্ধিত ডিএ কার্যকর হবে। রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, আধা-সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষকবৃন্দ—সকলেই এই সুবিধা পাবেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১৪:১৫
রাজ্যে ডিএ-র পরিমাণ অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে।

রাজ্যে ডিএ-র পরিমাণ অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাজেটে বাড়ল ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা। পুজোর আগেই টাকা পাবেন রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও। শিক্ষক সংগঠনগুলি জানাল, এ ‘মন্দের ভাল’ হল। আপাতত সন্তুষ্টির কথা স্বীকার করেও কিছু দাবির কথা তুলে ধরলেন সংগঠনের সদস্যেরা।

সোমবার ৩৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা হল রাজ্য বাজেটে। বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন রাজ্য সরকারি ও আধা সরকারি কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ দেওয়া হবে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হবে। এই ঘোষণায় খুশি শিক্ষামহলের একাংশ। যদিও শিক্ষকদের একাংশের দাবি, জুলাই থেকে এই ভাতা চালু করলে ভাল হত।

বর্তমানে সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পান। অর্থাৎ, ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির পর এর পরিমাণ বেড়ে হল ৩৮ শতাংশ। ১ অক্টোবর থেকে এই বর্ধিত ডিএ কার্যকর হবে। রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, আধা-সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষক— সকলেই এই সুবিধা পাবেন।

শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্রায় ৪২ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাকি ছিল। তার মধ্যে ২০ শতাংশ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সরকারের এই উদ্যোগকে ‘মন্দের ভাল’ বলেই মত শিক্ষকদের।

বিগত সরকারের আমল থেকেই এই মহার্ঘ ভাতা নিয়ে টালবাহানা চলছে। অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিলেও শিক্ষকেরা এখনও সেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাননি। এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টে যে ৬২ পাতার স্টেটাস রিপোর্ট রাজ্য সরকার দেয়, তা নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন শিক্ষকেরা।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘আজ সরকার বাজেট ঘোষণার সময় শিক্ষক সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি করেছে। আগের সরকার যে ভয়ঙ্কর বঞ্চনা করেছিল, তা কোনও সরকারের পক্ষে একসঙ্গে মেটানো সম্ভব ছিলো না। আমরা মোটের উপর সন্তুষ্ট। সরকারের কাছে আবেদন করব, বাকি ২২ শতাংশও যেন ডিসেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হয়।”

শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিনের বঞ্চনা দূর করে আপাতত ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা ঘোষণা করার জন্য আমরা সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু দাবি, আগামী জুলাই মাস থেকে তা কার্যকর করা হোক। বাকি সমস্ত বকেয়া দ্রুত মেটানো হোক।’’

বাজেট নথিতে স্বপন বলেছেন, ‘‘রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, আধা-সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষকবৃন্দ সরকারের কাজ ও নীতি রূপায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এঁদের এই অবদানকে স্বীকৃতি দিতে আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, বর্তমানের ১৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার উপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে। অর্থাৎ, মোট মহার্ঘ ভাতার হার হবে ৩৮ শতাংশ। পেনশন প্রাপকেরাও অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিয়ারনেস রিলিফ পাবেন। এই মহার্ঘ ভাতা বা ডিয়ারনেস রিলিফ বৃদ্ধি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।’’

তৃণমূল সরকারের আমলে ডিএ নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে এবং পুরনো বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে দীর্ঘ দিন আন্দোলন করেছেন কর্মচারীদের একাংশ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী বাজেটে ডিএ সামান্য বাড়িয়েছিল তৃণমূল সরকার। ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ডিএ বেড়ে ২২ শতাংশ হয়েছিল। তা এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বর্ধিত হার কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ডিএ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থার কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবি বার বার এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এ সংক্রান্ত মামলাও চলছে আদালতে। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেটেই সরকারি কর্মীদের ডিএ-ক্ষোভ কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা করল বিজেপি সরকার। এ ছাড়া, বকেয়া ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে।

DA Hike
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy