ডায়েট করার সময়ে খাওয়াদাওয়া নিয়ে নানা রকম বিধিনিষেধ থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেপেবুঝে খাওয়া ভীষণ জরুরি। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই সারা দিনের ক্যালোরির হিসাব বিগড়ে যেতে পারে। ওজন ঝরানোর ডায়েটে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, গমের আটার বদলে ‘মাল্টিগ্রেন’ আটা খেলে কি বেশি লাভ হবে?
গমের তৈরি আটায় ভাল মাত্রায় ফাইবার থাকে, যা খেলে দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরা থাকে। অন্য দিকে, ওট্স, বার্লি, রাগি, জোয়ারের মতো দানাশস্যের মিশ্রণে তৈরি ‘মাল্টি গ্রেন’ আটায় ফাইবারের পরিমাণ গমের আটার তুলনায় বেশি থাকে। তাই হজমের জন্য এই আটা বেশ ভাল, সঙ্গে পেট বেশি ক্ষণ ভরা রাখতেও সাহায্য করে এই আটা। তবে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত হলে ‘মাল্টিগ্রেন’ আটার গুণাগুণ অনেকটাই কমে যায়। তার উপর বাজার থেকে যে ‘মাল্টিগ্রেন’ আটাটি কিনছেন, তা আদৌ কতটা খাঁটি তা-ও খতিয়ে দেখার ব্যাপার আছে।
‘মাল্টিগ্রেন’ আটা কি সত্যিই ওজন ঝরাতে সাহায্য করে?
ফাইবার থাকার কারণে এই আটা ওজন ঝরানোর ডায়েটে রাখা যেতে পারে, তবে ওজন ঝরানোর সঙ্গে ‘মাল্টিগ্রেন’ আটার সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। পুষ্টিবিদ গরিমা তিওয়ারি বলেন, ‘‘যদি শুধু ওজন ঝরানোর কথা ভেবে ‘মাল্টিগ্রেন’ খেয়ে থাকেন, তা হলে খুব বেশি লাভ হবে না। কারণ, বাজারে ‘মাল্টিগ্রেন’ বলে যে আটা বিক্রি হচ্ছে তাতে ক’টা দানাশস্য আদৌ আছে, সে বিষয় সন্দেহ থেকেই যায়। এই আটা হয় পরিশোধিত। তাই সাধারণ আটার সঙ্গে সে ক্ষেত্রে ‘মাল্টিগ্রেন’ আটার খুব বেশি তফাত নেই।’’
তবে কোন আটা খাচ্ছেন, তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আছে, যেগুলি ওজন কমানোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পুষ্টিবিদ বলেন, ‘‘কটা রুটি খাচ্ছেন, তার উপরেই নির্ভর করবে ওজন কমবে কি না। ‘মাল্টিগ্রেন’ আটা কিনে রোজ ৪-৫টা রুটি খেয়ে নিলে কোনও লাভ হবে না, উল্টে ওজন বাড়বে। রুটির সঙ্গে আর কি খাচ্ছেন, সেটাও দেখতে হবে। খুব তেলমশলা ও ফ্যাটযুক্ত খাবার খেলে ওজন কমার আশা না রাখাই ভাল। ডায়েটে ভারসাম্য রাখা ভীষণ জরুরি। রুটির সঙ্গে প্রোটিন আর ফাইবার কতটা রাখছেন, তার উপরেই নির্ভর করবে ওজন আদৌ ঝরবে কি না। তার পাশাপাশি শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই হবে, স্বাস্থ্যের কথা ভেবে শারীরচর্চার জন্যেও সময় বার করতে হবে।’’