জিমে কসরত করছিলেন স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি)-এর এক কর্তা। মৃত্যু এল হঠাৎ। শরীরচর্চা করতে করতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন তিনি। আর উঠলেন না। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরাখণ্ডের চম্পাওয়াত জেলার ওই এসওজি আধিকারিকের নাম গিরীশ ভাট (৩৮)। তিনি বনবাসার বাসিন্দা এবং চম্পাওয়াত এসওজি-র কর্মরত সদস্য ছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় একটি জিমে শরীরচর্চা করার সময় গিরীশ হঠাৎই অসুস্থ বোধ করেন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, জিমের মধ্যে কসরত করছেন গিরীশ। একটি ‘ইলিপটিক্যাল ট্রেনার’-এ পায়ের ব্যায়াম করছেন। এমন সময় হঠাৎই ওই যন্ত্র থেকে নেমে আসেন এসওজি কর্তা। সামনের একটি রড ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সফল হননি। পর ক্ষণেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। জিমে উপস্থিত অনেকে তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন। তোলার চেষ্টা করেন তাঁকে। কিন্তু লাভ হয়নি। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, জিমে উপস্থিত লোকজন গিরীশকে দ্রুত স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
খবর, গিরীশের পরিবারে তাঁর স্ত্রী এবং দুই পুত্র রয়েছে। মূলত উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার বাসিন্দা হলেও তিনি পরবর্তীতে বনবাসায় পাকাপাকি ভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা শোকস্তব্ধ। চম্পাওয়াত এসওজি ইউনিটের অন্যতম দক্ষ এবং নিবেদিতপ্রাণ আধিকারিক হিসাবে পরিচিত ছিলেন গিরীশ। দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সহকর্মীরা তাঁকে একজন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসাবে বর্ণনা করেছেন, যিনি জেলা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিশেষ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বনবাসার শারদা ঘাট শ্মশানে পূর্ণ মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। পুলিশ সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি-সহ বহু মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:
চম্পাওয়াতের পুলিশ সুপার রেখা যাদব, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বনবাসা ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এই কর্মকর্তার অকালমৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। জেলা জুড়ে শোকবার্তা আসতে থাকে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে মানুষের ঢল নামে।
গিরীশের জিমে লুটিয়ে পড়ার ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়েছে ‘ঘর কা কলেশ’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার এসওজি কর্তার পরিণতি দেখে দুঃখপ্রকাশ করেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। অনেকে আবার কমবয়সিদের মধ্যে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন।