Advertisement
E-Paper

ইচ্ছাপত্র তৈরি না করেই বাবার মৃত্যু, কী ভাবে হবে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ বাঁটোয়ারা? কতটা পাবেন বিবাহিত মেয়ে?

ইচ্ছাপত্র তৈরি না করে বাবার মৃত্যু হলে কী হিসাবে হবে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ বাঁটোয়ারা? এ ক্ষেত্রে বাবার সম্পত্তির কতটা অংশ পাওয়ার অধিকারী বিবাহিত মেয়েরা?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১৫:৪২
Representative Picture

—প্রতীকী চিত্র।

সম্পত্তির ইচ্ছাপত্র বা উইল না করেই মারা গিয়েছেন বাবা। উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁর রেখে যাওয়া টাকা-পয়সা, গয়নাগাঁটি ও গাড়ি-বাড়ির পুরোটাই কি পাবে ছেলেরা? পিতার সম্পত্তিতে কতটা আইনি অধিকার রয়েছে কন্যাসন্তানের? পরিবারের সদস্যদের দ্বারা বঞ্চিত হলে কী ভাবে তা আদায় করবেন তাঁরা? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।

১৯৫৬ সালে পাশ হয় হিন্দু উত্তরাধিকার আইন। সেখানে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ বাঁটোয়ারার ক্ষেত্রে ছেলেদেরই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, ২০০৫ সালে এই আইনে ঐতিহাসিক সংশোধন করে কেন্দ্র। যার জেরে বর্তমানে পিতার সম্পত্তিতে পুত্রের মতই সমান অধিকার পাচ্ছেন কন্যা সন্তানেরাও। শুধু তা-ই নয়, বিয়ের পরও বাবার সম্পত্তির অংশ দাবি করতে পারবেন এ দেশের নারীরা।

পিতার সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে সন্তানদের মধ্যে বিবাদ এড়াতে বহু পরিবারের কর্তাই তৈরি করে থাকেন ইচ্ছাপত্র বা উইল। কিন্তু, সেটা না রেখেই যদি কেউ ইহলোক ত্যাগ করেন, তা হলে আইনগত ভাবে সেটা ‘উইলবিহীন’ মৃত্যু হিসাবে চিহ্নিত হবে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির সম্পত্তির উপর প্রথম অধিকার থাকবে প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের (ক্লাস-১ লিগ্যাল এয়ার)।

এখন প্রশ্ন হল, প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী কারা? এই তালিকায় মৃতের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েদের রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এঁদের মধ্যে সমান ভাবে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে। এখানে উল্লেখ্য, মৃতের মেয়ে বিয়ে করে অন্য পরিবারে চলে গেলেও পৈতৃক সম্পত্তির সমান ভাগ দিতে হবে তাঁকে।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে বহু ক্ষেত্রেই বিবাহিত বোনকে বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করে থাকেন ভাই বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। সেটা হলে, আইনি রাস্তায় পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ আদায় করতে পারবেন কন্যাসন্তান। তবে আদালতে দ্বারস্থ হওয়ার আগে কিছু নথি হাতে রাখতে হবে তাঁকে। যার মধ্যে একটি হল বাবার মৃত্যুর শংসাপত্র।

হিন্দু উত্তরাধিকারী আইনে, পৈতৃক সম্পত্তির কে কতটা দাবি করতে পারবেন, তার একটা স্পষ্ট সীমারেখা রয়েছে। জীবিত অবস্থায় নিজের উপার্জনে কোনও ব্যক্তি যদি কিছু কেনেন, তবে সেই সম্পত্তি বা বস্তুর উপর তাঁর একক অধিকার থাকে। সেই সম্পত্তি ইচ্ছাপত্রের মাধ্যমে তিনি যাকে খুশি দিতে পারেন। সম্পত্তির অংশ দাবি করার ক্ষেত্রে সেটা কখনই চাইতে পারবেন না পুত্র বা কন্যা সন্তানেরা।

উল্লেখ্য, কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাপত্র তৈরি না করে মারা গেলে এই নিয়ম কার্যকর হবে। ২০২০ সালের একটি রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, জন্মসূত্রে কন্যাসন্তান পৈতৃক সম্পত্তির সমান অংশীদার। আইন কার্যকর করার সময় বাবা বেঁচে ছিলেন কিনা, তার উপর ভিত্তি করে এই অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।

Property Sharing Property Dispute
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy