ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া নিয়ে আতঙ্ক সর্বত্র। বর্ষা এলেই মশা মারতে কামান দাগার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। তাতেও যে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া বা চিকুনগুনিয়া থেকে পরিত্রাণ মিলবে তা নয়। ক্ষুদ্র পতঙ্গটি নাজেহাল করে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। কী ভাবে মশককূলের নাশ হবে, সে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন দেশ-বিদেশের তাবড় গবেষকেরা। মশা নিয়ে মাথাব্যথা যতই থাক, এদের নির্মূল করা চাট্টিখানি কথা নয়। গবেষণা বলছে, পৃথিবীতে মানুষের আগমনের আগে থেকেই আছে মশা। ডাইনোসরেরা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, তবে মশা তার চরিত্র বদলে বিবর্তনের ধাক্কা সামলে ঠিক টিকে গিয়েছে। এদের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা চমকে দেওয়ার মতোই।
রক্ত চুষেই ‘জ্বর’ আসে মশার!
মশার কামড়ে মানুষের জ্বর হয় ঠিকই। তবে রক্ত চুষে মশারও জ্বর আসে? ‘আমেরিকান মসকিউটো কন্ট্রোল’-এর গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এটি ঠিক জ্বর নয়। মানুষের শরীরের উষ্ণ রক্ত পানের পরে মশার শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। তা এতটাই বাড়ে, যে মশার শরীরের কলকব্জা নষ্ট হতে থাকে। এই কারণে রক্ত খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্ত্রী মশার শরীরে 'হিট শক প্রোটিন' তৈরি হয় যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং রক্ত সহজে হজম করায়।
মানুষের শ্বাসের গন্ধ পায় মশা
মশারা তাদের শিকার খুঁজে বার করে শরীরের তাপ ও গন্ধ শুঁকে। গবেষণা বলছে, মানুষের শরীরে গন্ধ, তাপমাত্রার বদল ও শ্বাসের সঙ্গে নির্গত কার্বন-ডাই অক্সাইডের গন্ধ পায় মশারা। প্রায় ৫০ মিটার দূর থেকে এই গন্ধ চিনতে পারে তারা।
আরও পড়ুন:
কেন রাতে বেশি কামড়ায়?
রাতের বেলায় মশা বেশি কামড়ায়। এমনই দাবি করেছেন গবেষকেরা। শুধু রাতের বেলা বলে নয়, ‘আমেরিকান মসকিউটো কন্ট্রোল’-এর গবেষণায় আরও দাবি করা হয়েছে, যে চাঁদনি রাতে মশারা অধিক সক্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, রাতের বেলার আর্দ্র পরিবেশে মশাদের সক্রিয়তা বাড়ে। তা ছাড়া চাঁদের আলো তাদের দিক নির্দেশে সহায়ক নয়। রাতের বেলায় মানুষের ত্বক থেকে নির্গত কিছু রাসায়নিক যেমন ল্যাকটিক অ্যাসিড ও অ্যামোনিয়া মশাদের আকর্ষণ করে বেশি। তাই রাতের দিকেই তাদের উৎপাত বেশি হয়।
কেন রাতে বেশি কামড়ায় মশা?
‘ও’ গ্রুপের রক্ত বেশি পছন্দ
আপনার কি রক্তের গ্রুপ ‘ও’? তা হলে মশা আপনার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হবে। গবেষণা বলছে, ‘ও’ গ্রুপের মানুষকে বেশি মশা কামড়ায়। তুলনায় কম কামড়ায় ‘এ’ গ্রুপের মানুষদের। ‘বি’ গ্রুপের প্রতিও কম আকৃষ্ট হয় মশককুল।
অন্য প্রাণীর জিন বহন করে
গবেষণা বলছে, ডাইনোসরের সময়েও ছিল মশা। প্রায় ১০ থেকে ১৩ কোটি বছর আগে তারাও দাপিয়ে বেড়াত। ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, তবে মশারা বিবর্তনের ধাক্কা সামলে ঠিক টিকে গিয়েছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, অন্য প্রাণীর রক্ত খাওয়ার সময়ে তার জিনও শরীরে বহন করতে পারে মশা। ঠিক যেমন দেখানো হয়েছিল জুরাসিক পার্ক সিনেমায়। ডিএনএ বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড হল এমন এক জৈব, যা প্রত্যেক প্রাণীর বিষয়ে বিস্তর তথ্য বহন করে। স্ত্রী মশার শরীর থেকে পাওয়া রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, যে প্রাণীদের রক্ত তারা খেয়েছে তাদের ডিএনএ রয়েছে সেই রক্তে। মশার শরীরে নিজস্ব রক্তও থাকে। তবে তা অন্য প্রাণীর মতো লাল নয়। মশার রক্তকে বলে হিমোলিম্ফ। তাদের রক্তে কোনও হিমোগ্লোবিন থাকে না। ফলে খালি চোখে মশার পেটে যে লাল রক্ত দেখা যায়, তা অন্য প্রাণীরই।