আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যসমঝোতার কথা ঘোষণা পরই নিজের দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তানের সরকার। প্রশ্ন উঠছে, গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে ‘খুব ভাল’ সম্পর্ক বজায় রেখে লাভ কি হল? সেই তুলনায় ভারত নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে বেশি লাভবান হল, দাবি পাকিস্তানের অন্দরেই! পাক সরকারের সমালোচনা করে সে দেশের নাগরিকদের একাংশের মত, সম্মান কখনই কেনা যায় না।
গত বছর জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয় বার শপথ নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ মজবুত করতে উঠে পড়ে লাগে শাহবাজ় শরিফের সরকার। ট্রাম্পের নানা দাবিকে সমর্থন করে আসছে তারা। গত বছরের মে মাসে ভারত-পাক সংঘর্ষ বিরতি, তাঁর হস্তক্ষেপেই সম্ভব হয়েছে বলে বার বার দাবি করেন ট্রাম্প। যদিও ভারত প্রথম থেকেই সেই দাবি মানতে না-চাইলেও পাকিস্তান পূর্ণ সমর্থন করে। এখানেই শেষ নয়, ট্রাম্পের দাবিতে সায় দিয়ে শাহবাজ় সরকার এ-ও জানায়, ট্রাম্পের নোবেল পাওয়া উচিত। ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-কেও সমর্থন জানায় পাক সরকার। এত কিছুর পরেও ভারত লাভজনক অবস্থাতেই থেকে গেল বলে সমালোচিত হচ্ছে পাকিস্তান সরকার।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পরে গত সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যসমঝোতার কথা জানান ট্রাম্প। ভারতীয় পণ্য শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে বলে জানান তিনি। যা এশিয়ার অন্য অনেক দেশের উপর চাপানো শুল্কের তুলনায় কম। পাকিস্তানের উপর বর্তমানে ১৯ শতাংশ মার্কিন শুল্কের খাঁড়া ঝুলছে। এই বিষয়টি তুলেই সরব হয়েছেন পাকিস্তানের অনেকে।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানের বিভিন্ন মহলের দাবি, ট্রাম্পকে ‘তোষামোদ’ করে লাভ কী হল? সেই তুলনায় ভারত আমেরিকার সব দাবিকে সমর্থন না-করেও সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। এ নিয়ে কেউ কেউ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, আবার অনেকেই পাক সরকারকে ব্যঙ্গ করছেন। পাকিস্তান নাগরিকদের একাংশের মতে, শাহবাজ় সরকার ‘বোকা’ বলে গেল! শুধু সাধারণ মানুষ নন, সে দেশের রাজনৈতিক মহলেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতা হাম্মাদ আজ়হারের কটাক্ষ, শুধু চাটুকারিতা বা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তুললেই চলে না। বর্তমান পরিস্থিতিকে পাক সরকারের ‘কৌশলগত ব্যর্থতা’ হিসাবে দেখছেন তিনি। অনেকে এ-ও মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সইসাবুদ হলে এবং শুল্ক কমলে তা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে ধাক্কা দিতে পারে।
শুধু আমেরিকা নয়, দিন কয়েক আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা করেছে ভারত। চলতি বছরের শেষের দিকেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। দুই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে, তা ভারতের প্রতিবেশী পাকিস্তানের জন্য খুব একটা সুখকর হবে না বলে মনে করছে সে দেশের জনগণ। রফতানিতে ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।