তিন দিন পরে ‘রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ’ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির প্রতিক্রিয়া জানাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কিন্তু তাতেও ‘অবস্থান’ স্পষ্ট হল না বলে অভিযোগ উঠল। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারত তার ১৪০ কোটি জনসংখ্যার স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বা উৎস নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে, সরকার আগেও বেশ কয়েক বার প্রকাশ্যে বার্তা দিয়েছে। আমিও এখানে বলছি, যে ১.৪ বিলিয়ন (১৪০ কোটি) নাগরিকের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘বাজারের অভিমুখ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জ্বালানির উৎসের (এ ক্ষেত্রে আমদানির) বৈচিত্র্য আনা আমাদের কৌশলের মূল বিষয়। ভারতের সমস্ত সিদ্ধান্ত এই বিষয়টি মাথায় রেখেই নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।’’
আরও পড়ুন:
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তিনি। প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীই তাঁকে শুল্ক সমঝোতার জন্য অনুরোধ করেন বলেও জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকা এবং তার সহযোগী মিত্রদেশগুলির (যার মধ্যে ভেনেজ়ুয়লা অন্যতম) কাছ থেকে আরও বেশি তেল কিনবে ভারত। কিন্তু প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় নয়াদিল্লির তরফে মস্কো থেকে তেল কেনা বন্ধের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার জানিয়েছিল, নয়াদিল্লির তরফে তেল আমদানি বন্ধ করার কোনও বার্তা মস্কোয় আসেনি।