রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনও বার্তা আসেনি। মঙ্গলবার এই দাবি করল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দফতর। সেই সঙ্গে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভের ঘোষণা, ‘‘নয়াদিল্লির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারি গড়ে তোলার বিষয়ে বরাবরই আগ্রহী মস্কো।’’
সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীই তাঁকে শুল্ক সমঝোতার জন্য অনুরোধ করেন বলেও জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকা এবং তার সহযোগী মিত্রদেশগুলির কাছ থেকে আরও বেশি তেল কিনবে ভারত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নয়াদিল্লির তরফে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
পেশকভ মঙ্গলবার সেই প্রসঙ্গেরই উল্লেখ করে কার্যত ট্রাম্পের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘রাশিয়া বরাবরই ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ককে মূল্যবান বলে মনে করে এবং দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারি এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।’’ প্রসঙ্গত, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তেল কিনে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়াকে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে গত অগস্টের গোড়ায় ভারতীয় পণ্যে জরিমানা-সহ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা জানিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরকার। তার পরেও রাশিয়া থেকে ধারাবাহিক ভাবে তেল কিনেছে ভারত।
ট্রাম্প সরকারের অভিযোগ, ভারতের তেল কেনার জন্যই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থ পাচ্ছে রাশিয়া। যদিও বিভিন্ন পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের সমালোচনাকারী দেশগুলি নিজেরাই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছে! পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, শুধু ২০২৪ সালেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়ার মধ্যে ৬৭৫০০ কোটি ইউরোর (প্রায় ১৮ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে। সেই হিসাবে দেখতে গেলে ভারত-রাশিয়ার মোট বাণিজ্যের চেয়ে অনেক বেশি। শুধু তা-ই নয়, ২০২৪ সালে ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পরিমাণও ১৬৫ লক্ষ টনে গিয়ে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।