কেন ভারত সরকার বা নরেন্দ্র মোদী নন? ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি কেন আগে একতরফা ভাবে ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। একই সঙ্গে এই চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে। এই চুক্তি কী ভাবে ভারতীয় কৃষক, ব্যবসায়ী এবং শিল্পকে প্রভাবিত করবে, তা সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করুক মোদী সরকার— দাবি কংগ্রেসের।
সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কথা ঘোষণা করেন। সেই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার কারণে তাঁর অনুরোধে আমরা ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে অবিলম্বে একটি বাণিজ্যচুক্তি (শুল্ক সমঝোতা) করতে সম্মত হয়েছি।’’ সেই বিষয়টি উত্থাপন করে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য-সিদ্ধান্ত ভারত সরকারের পরিবর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একতরফা ভাবে ঘোষণা করলেন?
কংগ্রেসের আশঙ্কা, শুল্ক, অশুল্ক বাধা ‘শূন্যে’ নিয়ে আসতে পারে ভারত। মোদী সরকার মার্কিন পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। তার পরেই গত বছর মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির প্রসঙ্গ টানে কংগ্রেস। সেই সময় সংঘর্ষবিরতির কথা ভারত সরকারের আগে ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। কংগ্রেস সেই বিষয়টি উল্লেখ করেন বলে, ‘‘সংঘর্ষবিরতির মতো, বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করলেন।’’
ভারতীয় কৃষকদের সুরক্ষা এবং স্বার্থরক্ষার্থে ভারত সরকার কী পরিকল্পনা করছে, তা জানাতে হবে, দাবি কংগ্রেসের। তারা বলে, ‘‘ট্রাম্পের বিবৃতিতে আমেরিকার জন্য ভারতের কৃষিক্ষেত্র উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। চুক্তিটি আসলে কী? আমাদের কৃষকদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা কী ভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে?’’
আরও পড়ুন:
রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে বড় দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন মোদী। পরিবর্তে আমেরিকা থেকে বেশি করে তেল কিনবে ভারত। এ ব্যাপারে ভারত এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সেই প্রসঙ্গে টেনে কংগ্রেসের প্রশ্ন, ‘‘মোদী সরকার সত্যিই কি এই শর্তে রাজি হয়েছে?’’
ট্রাম্প এ-ও দাবি করেন, আমেরিকা থেকে ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২২ কোটি টাকার পণ্য ভারত কিনবে কথা বলে দিয়েছেন মোদী। কংগ্রেসের প্রশ্ন, তা হলে মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র স্বপ্নের কী হল? হাত শিবিরের দাবি, ‘‘বাণিজ্যচুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার অধিকার রয়েছে সকলের। সংসদ এবং সমগ্র দেশকে বিষয়টি নিয়ে জানাতে হবে মোদী সরকারকে।