Advertisement
E-Paper

মোহনবাগানের ভক্ত প্রেয়সীকে ঘরণি করার আগে গোটা বাড়ি সবুজ-মেরুনে রাঙালেন প্রেমিক, প্রেমদিবসের উপহার

সলজ্জ শুভজিৎ বলেন, ‘‘বৈদ্যবাটি হাতিশালা ঘাটে ওর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। আলাপ থেকে প্রেম হতে বেশি সময় লাগেনি। আমাদের পছন্দগুলো খুব মেলে। শ্রমণাও মোহনবাগান-প্রেমী। দু’জনে একসঙ্গে মাঠে বসে খেলা দেখি।’’

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৫
Mohun Bangan Home

প্রেমিকার জন্য ‘মোহনবাগান বাড়ি’। —নিজস্ব ছবি।

লাল নয়, তাঁদের কাছে প্রেমের রং মানে সবুজ-মেরুন। প্রেমিক-প্রেমিকা দু’জনেই ফুটবল অন্ত প্রাণ, দু’জনেই মোহনবাগান ক্লাবের অন্ধ সমর্থক। তাই প্রেমদিবসের আগে প্রেমিকাকে উপহার দিতে নিজের বাড়ির রং সবুজ-মেরুনে রাঙালেন প্রেমিক। তিনি জানালেন, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেমদিবসের আগেই প্রেমিকার জন্য উপহার তৈরি করে ফেলেছেন।

হুগলির বৈদ্যবাটির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শুভজিৎ ঘোষদের দোতলা বাড়ি। সেই বাড়িতে নতুন রঙের কাজ দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়াচ্ছেন। ধরে নেওয়া যায়, পথচারীরাও ফুটবল তথা মোহনবাগান-ভক্ত। কারণ, শুভজিতদের গোটা বাড়ি রাঙানো হয়েছে মোহনবাগানের পতাকা বা জার্সির রঙে। বাড়ির প্রবেশপথে ঠিক উপরেই লাগানো রয়েছে সবুজ-মেরুন দলের লোগো পাল তোলা নৌকা। এলাকাবাসীর কাছে এই বাড়ি এখন ‘মোহনবাগান বাড়ি’ বলে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

শুভজিতের বাড়ির সকলেই মোহনবাগান-ভক্ত। শুভজিতের বাবা সুব্রত ঘোষ সরকারি চাকরি করেন। ২০০৬ সাল থেকে বাবার সঙ্গে মোহনবাগানের খেলা দেখা শুরু শুভজিতের। তখন থেকেই ফুটবল দলের ‘ফ্যান’ তিনি। ঘটনাচক্রে যুবক যাঁকে মন দিয়েছেন, সেই তন্বীও মোহনবাগান-ভক্ত।

এক পাড়াতেই দু’জনের বাড়ি। তবে পড়াশোনার সূত্রে শ্রমণা নন্দীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল শুভজিতের। সলজ্জ যুবক বলেন, ‘‘বৈদ্যবাটি হাতিশালা ঘাটে ওর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। আলাপ থেকে প্রেম হতে বেশি সময় লাগেনি। আমাদের পছন্দগুলো খুব মেলে। তার পর শ্রমণাও মোহনবাগান-প্রেমী। দু’জনে একসঙ্গে মাঠে বসে খেলা দেখি।’’

আর কিছু দিন পরে প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চলেছেন শুভজিৎ। তোড়জোড় চলছে দুই বাড়িতেই। বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে যে বাড়িতে তাঁরা থাকবেন, সেই বাড়ি ‘মোহনবাগান রঙে’ রাঙিয়েছেন বৈদ্যবাটির যুবক। তাঁর কথায়, ‘‘আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল, বাড়িটা মোহনবাগানের জার্সির রঙে রঙে করব। হয়ে উঠছিল না। শ্রমণাও ওর একই ইচ্ছার কথা বলে। তাই ঠিক করলাম বিয়ের আগে বাড়ির রঙটা করেই ফেলি। বাড়ির সকলেই খুশি।’’

সামনেই প্রেমদিবস। একে অপরকে উপহার দেন প্রেমিক-প্রেমিকারা। শুভজিৎ আর ‘সারপ্রাইজ়’ রাখলেন না। শ্রমণার প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করলেন সবুজ-মেরুনে।

পুত্রের ‘কীর্তি’ নিয়ে শুভজিতের বাবা বলেন, ‘‘আমার পরিবারের সকলেই তো মোহনবাগানের সদস্য। অন্য বাড়ির মহিলারা অবসর সময়ে টিভিতে সিরিয়াল দেখেন। আমাদের বাড়িতে সকলেই দেখি ফুটবল ম্যাচ। বাড়িতে যিনি আসছেন, আমার হবু বৌমা, তিনিও মোহনবাগানের ভক্ত। ছেলের কাজে আনন্দই পেলাম।’’

Mohun Bagan Couple Hooghly
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy