E-Paper

ডানকুনি থেকে আরও একটি ফ্রেট করিডর

২০০৯ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডানকুনি-লুধিয়ানা ফ্রেট করিডর নির্মাণের কথা ঘোষণা করেন।

দীপঙ্কর দে

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫০
ডানকুনি স্টেশন।

ডানকুনি স্টেশন। নিজস্ব চিত্র।

দেড় দশক আগে ঘোষিত হয়েছিল ডানকুনি থেকে পঞ্জাবের লুধিয়ানা পর্য়ন্ত ফ্রেট করিডর। সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়া এখনও অনেক দূর। তার মধ্যেই রবিবার কেন্দ্রীয় বাজেটে এই জেলা থেকে আরও এক ফ্রেট করিডরের ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। প্রস্তাবিত নতুন ফ্রেট করিডর হবে ডানকুনি থেকে গুজরাতের সুরাত পর্যন্ত।

সাধারণ মানুষের অনেকেরই ধারণা, ফ্রেট করিডরের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ হলে একদিকে বাণিজ্যের পক্ষে সহায়ক হবে। ওই লাইনে শুধু মালগাড়ি চলায় তার গতিও অনেক বেশি হবে। দ্রুত পণ্য পরিবহণ করা যাবে। অন্য দিকে, যাত্রিবাহী ট্রেন চলাচলেও খানিক সুবিধা মিলবে। তবে, ডানকুনি-লুধিয়ানা ফ্রেট করিডরের কাজই যেখানে শম্বুক গতিতে চলছে, সেখানে নতুন প্রকল্পের কাজ কতটা দ্রুত হবে, সে নিয়ে তাঁরা সন্দিহান।

ডানকুনির এক যুবক বলেন, ‘‘ফ্রেট করিডর হলে ভাল হবে। পণ্য পরিবহণ যত বাড়বে, এলাকাভিত্তিক উন্নতি হবে। বাজেটের ঘোষণা পুরোপুরি ভাবে বাস্তবায়িত হলে ভাল। বাজেটে অনেক ঘোষণা হয়, পরে অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তব রূপ পায় না।’

২০০৯ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডানকুনি-লুধিয়ানা ফ্রেট করিডর নির্মাণের কথা ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ডানকুনি থেকে চন্দনপুর পর্যন্ত পরিকাঠামো তৈরির কথা ছিল। সেই কাজ বিশেষ এগোয়নি। তবে, অনেক জায়গায় জমি অধিগ্রহণ করে দখলমুক্ত করার কাজ চলছে। গোবরা, মির্জাপুর, শক্তিগড় ইত্যাদি জায়গায় বাড়ি ও দোকান ঘর ভাঙার কাজ হয়েছে।

ওই ঘোষণার পরেই গড়ে ওঠা ‘বাসস্থান ও জীবিকা নির্বাহ রক্ষা কমিটি’র সম্পাদক অনুপকুমার দাসের দাবি, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় তাঁদের ক্ষতিপূরণের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাতে চাকরির প্রতিশ্রুতি ছিল। তিনি বলেন, ‘‘শর্ত পূরণ না করে জোর করে জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা চলছে। আমরা আন্দোলন নামব। আদালতে যাব।’’

ওই কমিটির আর এক সদস্য তপন কোলের বক্তব্য, ‘‘আমরা ফ্রেট করিডরের পক্ষে। কিন্তু আমাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি মতো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে না। দু’টি পর্যায়ে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও প্রথম পর্যায়ে টাকা দিয়ে বাড়ি, দোকান খালি করার নোটিস দেওয়া হয়েছে। নতুন ফ্রেট করিডরের ঘোষণা হয়েছে, তার কী হবে জানি না।’’

ডানকুনির আইএনটিটিইউসি সভাপতি দেবাশিস নন্দীর দাবি, ‘‘সুরাত পর্যন্ত ফ্রেট করিডরের কথা আগেও ঘোষণা করা হয়েছিল। এটা নতুন কিছু নয়।’’ বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত সব কাজই করছে। বাজেটে নতুন ফ্রেট করিডরের কথা ঘোষণার ফলে দেশের মানচিত্রে ডানকুনি ব্যবসার জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’’

তথ্য সহায়তা: সুদীপ দাস

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

dankuni

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy