রোজের ডায়েটে নির্দিষ্ট মাত্রায় ক্যালশিয়াম রাখা ভীষণ জরুরি। যাঁরা দুধ কিংবা দুগ্ধজাত খাবার খেতে পারেন না, তাঁদের শরীরে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যালশিয়ামের অভাব ধরা পড়ে। মহিলাদের শরীরেও চল্লিশের পর ক্যালশিয়ামের অভাব হয়। তাই হাড়ের জোর বৃদ্ধি করে ক্যালশিয়াম খাওয়ারই পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তাই ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াই জরুরি। তবে অনেকেই সহজ পদ্ধতি হিসেবে ক্যালশিয়াম ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্টেই বেশি ভরসা করেন। এই ধরনের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট ক্যালশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে ঠিকই, তবে তা যদি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খেতে থাকেন, তা হলে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। হার্টের রোগও হতে পারে। তাই ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের বিকল্প হিসেবে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন ক্যালশিয়াম বল।
ক্যালশিয়াম বল একটি খাবার যা ঘরোয়া উপকরণেই তৈরি করা যায়। বেশি সাপ্লিমেন্ট খেলে যেমন কিডনিতে পাথর হওয়ার বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে, এতে তেমন নেই। রোজের জলখাবারে অনায়াসেই রাখতে পারেন। ক্যালশিয়াম বল যে যে উপকরণ দিয়ে তৈরি হয় যা ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ। একাধারে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে পেশি ও হাড়ের জোর বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে, জিঙ্ক ও ম্যাগনেশিয়ামের অভাবও পুষিয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে তৈরি করবেন ক্যালশিয়াম বল?
উপকরণ:
৪ কাপ কালো তিল
আধ কাপ কুড়োর বীজ
১০-১২টি আখরোট
৪ চামচ নারকেল কোরা
১ কাপ মাখানা
৮-১০টি মাঝারি মাপের ডুমুর
২ চামচ কিশমিশ
১ চামচ ঘি
২-৩ চামচ সাদা তিল
প্রণালী:
শুকনো খোলায় সাদা তিল ভেজে রাখুন। এ বার একই ভাবে কালো তিল, আখরোট, কুমড়োর বীজ ও নারকেল কোরা শুকনো খোলায় নাড়াচাড়া করে নিন। সুন্দর গন্ধ বার হলে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা করে ব্লেন্ডারে ভাল করে পিষে নিয়ে মিহি মিশ্রণ তৈরি করুন। এ বার ব্লেন্ডারে ডুমুরগুলি নিয়ে পিষে নিন। সেটি মিশিয়ে দিন পিষে রাখা বাদাম-বীজের মিশ্রণে। এ বার মাখানা আলাদা করে শুকনো খোলায় নেড়ে নিয়ে গুঁড়িয়ে নিন। মাখানার গুঁড়ো মিশিয়ে দিন আগের মিশ্রণে। এ বার সমস্ত কিছু ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে কিশমিশ, সাদা তিল ও ঘি মিশিয়ে মেখে নিন। শুকনো করে মিশ্রণটি মাখতে হবে। তার পর হাতে সামান্য ঘি মাখিয়ে ওই মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট বলের মতো গড়ে নিন।
এটি ক্যালশিয়াম, জিঙ্ক ও ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ এবং প্রতিটি বল থেকে ৯০ ক্যালোরি করে পাওয়া যাবে। ক্যালশিয়াম বলের তিল ও বাদাম চুল পড়া বন্ধ করবে, ত্বকের লাবণ্য বৃদ্ধি করবে। এটি হজমেও সহায়ক। চল্লিশোর্ধ্ব মহিলারা এটি নিয়মিত খেলে বাতের ব্যথাবেদনা থেকেও রেহাই পাবেন। বায়ুনিরুদ্ধ কাচের কৌটোতে ক্যালশিয়াম বল সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।