ধৈর্যের ফল মিলেছে! ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হ্রাসের ঘোষণাকে এ ভাবেই বর্ণনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার এনডিএ সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে মোদী আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, শুল্ক নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। কিন্তু এখন সেটাই ইতিবাচক ফলাফলের দিকে এগিয়ে গিয়েছে।
এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘‘এই চুক্তি একটি অনুকূল অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য আলোচনায় সরকারের অবিচল দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটছে।’’ পরেও প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘মানুষ শুল্কের সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু আমরা ধৈর্য ধরে ছিলাম। তার ফলাফলই এখন দৃশ্যমান।’’ তাঁর মতে, বিশ্বের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটছে। তার গতিপথ ক্রমশ ভারতে দিকে ঝুঁকছে বলে দাবি করেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘বিশ্ব জুড়ে যে বাণিজ্য-উত্তেজনা চলছে, তার মধ্যেও ভারত লাভজনক জায়গায় পৌঁছোচ্ছে।’’
মোদীর মতে, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক লাভের সুযোগ রয়েছে। বাণিজ্যচুক্তির ফলে এখন দেশীয় এবং উচ্চমানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যা ভারতে শিল্পকে অনেকাংশে এগিয়ে দেবে। আমেরিকা এবং ভারতের বাণিজ্যচুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেও বর্ণনা করেন মোদী।
আরও পড়ুন:
সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির কথা ঘোষণা করেন। ভারতীয় পণ্য শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে বলে জানান তিনি। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারত ৫০০০০ কোটি ডলারেরও (৪৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি) বেশি মূল্যের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা এবং অন্যান্য অনেক পণ্য কিনবে। মোদীও তাঁর এক্স হ্যান্ডলে এই চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে ট্রাম্পকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করে লেখেন, ‘‘ভারতে তৈরি পণ্যের উপর এখন শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে জেনে আনন্দিত। এই দারুণ ঘোষণার জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনেক ধন্যবাদ। যখন দু’টি বৃহৎ অর্থনীতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করে, তখন তাতে আমজনতা উপকৃত হয়। পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রচুর সুযোগ তৈরি করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্ব বিশ্ব জুড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তির জন্য তাঁর প্রচেষ্টাকে ভারত পূর্ণ সমর্থন করে।’’