বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেন, অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং এবং কমিকস (এভিজিসি) ক্ষেত্র একটি দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পে পরিণত হচ্ছে ভারত। ২০৩০ সালের মধ্যে এই ক্ষেত্রে ২০ লক্ষ পেশাদারের প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানান তিনি।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:০১
Share:Save:
এই খবরটি সেভ করে রাখার জন্য পাশের আইকনটি ক্লিক করুন।
০১১৬
সময় যত এগোচ্ছে, ডিজিটাল দুনিয়ায় হাতছানি ততই দুর্নিবার হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে এ বারের বাজেটে নয়া ঘোষণা করল কেন্দ্র। রবিবার বাজেট পেশের সময় ভারতের সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্র ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’ বা কমলা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার কথা শোনা গিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের মুখে।
০২১৬
ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে জন্য সৃজনশীল কর্মসংস্থান তৈরির জন্য ‘কমলা অর্থনীতি’কে জোরালো সমর্থনের প্রস্তাবও করেছেন নির্মলা। বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেন, অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং এবং কমিকস (এভিজিসি) ক্ষেত্র একটি দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পে পরিণত হচ্ছে ভারত। ২০৩০ সালের মধ্যে এই ক্ষেত্রে ২০ লক্ষ পেশাদারের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে এভিজিসি ক্ষেত্রও আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন তিনি।
০৩১৬
২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট উপস্থাপনের সময়ে নির্মলা জানিয়েছেন, দেশে ১৫ হাজার স্কুল এবং ৫০০ কলেজে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব’ তৈরি করবে কেন্দ্র। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরা যাতে ছোট থেকেই ডিজিটাল দুনিয়ায় সৃজনশীল কাজ করার জন্য তৈরি হতে পারে, তাই এই উদ্যোগ।
০৪১৬
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি ১৫,০০০ মাধ্যমিক স্কুল এবং ৫০০ কলেজে এভিজিসি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব তৈরিতে মুম্বইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিসকে সহায়তা করার প্রস্তাব করছি।’’
০৫১৬
এই ল্যাবগুলি শিক্ষার্থীদের কন্টেন্ট তৈরির প্রথাগত প্রশিক্ষণ দেবে। ডিজিটাল মাধ্যমে গল্প বলতে সাহায্য করবে। প্রকৃত অর্থে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা বিষয়স্রষ্টা হতে সাহায্য করবে।
০৬১৬
যাঁরা গেমিং অ্যাপের নকশা করতে আগ্রহী কিংবা ভিজ়্যুয়াল এফেক্ট নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম মেধার মতো বিষয়ে জোর দেওয়া যাবে।
০৭১৬
সরকার মনে করছে, এতে তরুণদের শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ারও বিবিধ পথ খুলে যাবে। প্রসঙ্গত, বাজারচলতি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা ইউটিউবারদের জন্য কিন্তু এই প্রকল্প নয়।
০৮১৬
বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাজেটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রককে ৪,৫৫১.৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রসার ভারতীর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ করা হয়েছে। এভিজিসি ক্ষেত্রে প্রতিভা বিকাশের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা, যা আখেরে চাঙ্গা করবে কমলা অর্থনীতিকে।
০৯১৬
২০২৫-’২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষাতেও উল্লেখ করা হয়েছিল, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, বিনোদন এবং বৌদ্ধিক সম্পত্তি-সহ সৃজনশীলতার প্রয়োজন এমন ক্ষেত্রগুলি কর্মসংস্থান, নগর পরিষেবা এবং পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
১০১৬
নির্মলার মুখে বাজেটের সময় যে এভিজিসি ক্ষেত্রের সমর্থনে কথা বলতে শোনা গিয়েছে, তা সবই ‘কমলা অর্থনীতি’র অংশ। ‘কমলা অর্থনীতি’ বলতে এই কার্যক্রমগুলি মূলত ধারণা, শৈল্পিক প্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক মূলধন থেকে আয়ের মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা বোঝায়।
১১১৬
২০২৫-’২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় নগর পরিষেবা, পর্যটন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ‘কনসার্ট অর্থনীতি’র সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছিল। ‘কনসার্ট অর্থনীতি’ বলতে বোঝায় বড় বড় অনুষ্ঠানের কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতে যে ভাল প্রভাব পড়ে, তাকে।
১২১৬
নির্মলা তাঁর বাজেট বক্তৃতায় আরও জানিয়েছেন যে, ভারতীয় নকশা (ডিজ়াইন) শিল্পও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভারতের পূর্বাঞ্চলে নকশা শিক্ষা এবং উন্নয়নকে উৎসাহিত করার জন্য একটি নতুন জাতীয় নকশা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছেন তিনি।
১৩১৬
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ভারতের নকশা শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও দেশে প্রশিক্ষিত ডিজ়াইনারের ঘাটতি রয়েছে। আর সে ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান জোরদার করতেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত।
১৪১৬
রবিবার সংসদে বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এই নিয়ে টানা নবম বারের জন্য বাজেট বক্তৃতা করলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী তৃতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই নিয়ে তৃতীয় বার পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করল তাঁর সরকার।
১৫১৬
বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই ২০২৬-’২৭ আর্থিক বছরের ব্যয়বরাদ্দকে কেন্দ্র করে আমজনতা থেকে শুরু করে শিল্পসংস্থার মধ্যে চড়ছিল প্রত্যাশার পারদ। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ সংসদে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন নির্মলা।
১৬১৬
তবে নির্মলার বাজেটে প্রত্যাশার পতন হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করার পর দেখা যায়, তাতে মধ্যবিত্তের জন্য বিশেষ কিছুই নেই। বাজেট হতাশাজনক বলেও মনে করছেন অনেকে। হতাশ মধ্যবিত্ত করদাতারাও। অন্তত তেমনটাই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।