আমেরিকায় পণ্য রফতানিতে কি এ বার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশি সুবিধা পাবে ভারত? নতুন করে শুল্ক সমঝোতার পরে সেই প্রশ্নই উঁকি মারতে শুরু করেছে। ভারতের উপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা এশিয়ার অন্য অনেক দেশের উপর চাপানো শুল্কের তুলনায় কম।
বর্তমানে আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম উভয় দেশের পণ্যের উপরেই ২০ শতাংশ করে শুল্ক চাপানো রয়েছে। এই দুই দেশই বস্ত্র রফতানিতে ভারতের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। এত দিন ভারতীয় পণ্যে আমেরিকা ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রাখার ফলে দুই দেশই কিছুটা সুবিধা পেয়েছে মার্কিন বাজারে। তবে এ বার নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় ফের আমেরিকায় পুরানো বাজার ফিরে পেতে পারে ভারতীয় বস্ত্র। তবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হতে পারে বাংলাদেশের। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপর মার্কিন শুল্ক শেষ পর্যন্ত কত হয়, তার উপরেও পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করতে পারে।
এ ছাড়া বস্ত্র রফতানির বাজারে চিনও ভারতের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। চিনের উপরে বর্তমানে ৩৭ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকা। তার চেয়ে ভারতের জন্য শুল্ক অনেকটাই কম। ফলে সেই জায়গা থেকেও লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় বস্ত্র শিল্পের। পাশাপাশি পাকিস্তান-সহ এশিয়ার আরও কিছু দেশ যেমন মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া এবং তাইল্যান্ডের উপরেও মার্কিন শুল্ক রয়েছে ১৯ শতাংশ। ট্রাম্পের নতুন ঘোষণায় আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে আপাতত কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় থাকছে ভারত।
আরও পড়ুন:
সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতের উপর ‘পারস্পরিক শুল্ক’ (রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ) ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে ২৫ শতাংশ ‘জরিমানা শুল্ক’ থাকবে, না প্রত্যাহার করা হবে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট করেননি তিনি। পরে হোয়াইট হাউসের আধিকারিক সূত্রে রয়টার্স জানায়, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর চাপানো ২৫ শতাংশ ‘জরিমানা শুল্ক’ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে আমেরিকা। কারণ, এই শুল্কটি ২৫ শতাংশ ‘পারস্পরিক-শুল্ক’-এর উপরে অতিরিক্ত হিসাবে চাপানো হয়েছিল।
ভারতের উপর নতুন মার্কিন শুল্কের হার প্রতিবেশী দেশগুলি এবং এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় কম। কিন্তু তাতে কি আদৌ সুবিধা হবে ভারতের? কারণ, ভারতের সকল প্রতিবেশী দেশ এবং এশিয়ায় কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আমেরিকা পণ্য রফতানিতে বিশেষ ‘ছাড়’ পায়। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুসারে, উন্নত দেশগুলি উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশগুলির কিছু পণ্য আমদানির উপর শুল্কে ছাড় দেয়। এটিকে বলা হয় ‘জেনারালাইজ় সিস্টেম অফ প্রেফারেন্স’ (জিএসপি)। আমেরিকার বাজারে ভারতের প্রতিবেশী এবং এশিয়ার কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ এই ‘জিএসপি’-র আওতায় এমনিতেই প্রায় পাঁচ শতাংশ ছাড় পায়। অতীতে ভারতও এই ছাড় পেত। কিন্তু ২০১৯ সালের জুনে ট্রাম্প সরকারের প্রথম মেয়াদে ভারতের থেকে এই সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২ ফেব্রুয়ারি নিজেই সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতের উপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন তিনি।
- ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীই তাঁকে শুল্ক সমঝোতার জন্য অনুরোধ করেন বলে জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকার কাছ থেকে আরও বেশি তেল কিনবে ভারত।
-
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সার! ১৫ নয়, ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কই ধার্য করল মার্কিন সরকারি এজেন্সি, মঙ্গলবার থেকেই হল কার্যকর
-
১০ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
-
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতায় বদল নেই, নিজের দেশের সুপ্রিম রায়ে ‘হতাশ’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
-
কোর্ট বেআইনি বলায় কি শুল্কের টাকা ফেরত দিতে হবে? ১০% নতুন শুল্ক আরোপ করে ঘুরপথে আয়ের ভাবনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের!
-
কবে থেকে কমছে ২৫% শুল্ক? জানাল আমেরিকা! রুশ তেল নিয়ে সিদ্ধান্ত দেশীয় সংস্থাগুলির দিকে ঠেলল মোদী সরকার