E-Paper

জনজাতি এলাকায় জনবিন্যাসে বদলে নজর

গত বছর লাল কেল্লা থেকে জনবিন্যাসের চরিত্র বদল ঠেকাতে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডেমোগ্রাফিক মিশনের উল্লেখ করেছিলেন, তখনই জনজাতি এলাকায় জনবিন্যাস পাল্টে যাওয়ার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছিলেন তিনি।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ০৯:৫০

—প্রতীকী চিত্র।

কেবল সীমান্ত এলাকাতেই নয়, জনবিন্যাসের চরিত্র বদল হচ্ছে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকা, শহুরে এলাকা, শিল্প করিডরগুলিতেও। চলতি সপ্তাহে দিন কয়েক আগে ডেমোগ্রাফিক মিশনের কাজ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্র। সীমান্তের পাশাপাশি কেন দেশের ওই সব অংশে জনবিন্যাসের চরিত্র পাল্টে যাচ্ছে, তা-ও এ বার খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি।

গত বছর লাল কেল্লা থেকে জনবিন্যাসের চরিত্র বদল ঠেকাতে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডেমোগ্রাফিক মিশনের উল্লেখ করেছিলেন, তখনই জনজাতি এলাকায় জনবিন্যাস পাল্টে যাওয়ার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছিলেন তিনি। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে যে অনুপ্রবেশ হয়ে থাকে, তা আজ আর পশ্চিমবঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিক অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলির জনবিন্যাসের চরিত্র যেমন পাল্টে গিয়েছে, তেমনই এর প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী বিহারের সীমাঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের ছোটনাগপুর অঞ্চলে। উত্তর বিহারের একাধিক জেলা বর্তমানে মুসলিম অধ্যুষিত। তেমনই জনজাতি অধ্যুষিত সাঁওতাল পরগনায় আজ জনজাতিরাই সংখ্যালঘুতে পরিণত হতে বসেছেন। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, জনজাতিদের সরলতার সুযোগ নিয়ে জমি হাতিয়ে নিচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা।

কেবল এই জায়গাগুলিতেই নয়, বিভিন্ন শিল্প করিডর, বিভিন্ন শহর, দেশের সামাজিক ও আর্থিক ভাবে উল্লেখজনক এলাকাগুলি, যেখানে সস্তায় শ্রমের প্রয়োজন হয়, সব জায়গায় জনবিন্যাসের চরিত্র পাল্টে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সীমান্ত ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে একাধিক স্থানে জনবিন্যাসের চরিত্র পাল্টে যাচ্ছে। যা নিছক জন্মহার বা মৃত্যুহারের কম-বেশি দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

কেন্দ্র মনে করছে, এর পিছনে প্রথমে অনুপ্রবেশ, তার পরে কাজের খোঁজে পরিযায়ী হিসেবে সেই সব কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছে যাওয়া এবং ওই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে প্রশাসনিক ব্যর্থতাই ওই সব এলাকার জনবিন্যাসের চরিত্র পাল্টে যাওয়ার জন্য দায়ী।

তাই ওই কমিটিকে জনসংখ্যা পরিবর্তনের পিছনে সম্ভাব্য কারণ যেমন প্রজনন হারের তারতম্য, অনুপ্রবেশ, কাজের সুযোগ, অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ঘন বস্তি গজিয়ে ওঠা এবং অন্যান্য সামাজিক ও পরিবেশগত দিক খতিয়ে দেখবে কমিটি। বিশেষ করে জাতীয় গড়ের চেয়ে যেখানে জন্ম হার বেশি, সেখানকার ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়গুলির মধ্যে কী ভাবে জনসংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে, তা-ও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে কমিটিকে। ওই কমিটি দেশে বসবাসকারী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ, আটক ও দেশে ফেরানোর প্রশ্নে স্থায়ী ব্যবস্থার সুপারিশ করতে চলেছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জনসংখ্যার স্থিতিশীলতা ধরে রাখার প্রশ্নেও সুপারিশ করবে ওই কমিটি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Census SC ST Tribal

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy