বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজ্যসভার আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন জেডিইউ সভাপতি নীতীশ কুমার। গত কয়েক দিন ধরেই এ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে বিহারের রাজনীতিতে। প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি, নীতীশকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদের দখল নিতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি।
এই আবহে বুধবার সন্ধ্যায় জেডিইউর কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠক শুরু হওয়ায় জল্পনা আরও দানা বেঁধেছে। বৈঠক শেষে জেডিইউ-র বিহার রাজ্য সভাপতি তথা নীতীশ মন্ত্রিসভার সদস্য বিজয়কুমার চৌধরি বলেন, ‘‘নীতীশজি রাজ্যসভার ভোটে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে উনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’’
জেডিইউ-র একটি সূত্র জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজ্যসভার ভোটে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন নীতীশ। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ-র ক্ষমতা ভাগাভাগির ফর্মুলা মেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় কোনও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন তিনি। সমঝোতার শর্ত মেনে নীতীশ-পুত্র নিশান্ত বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
নীতীশ কুমার যদি জাতীয় রাজনীতিতে চলে যান, তা হলে বিহারে মুখ্যমন্ত্রীর পদে কে বসবেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা। এ ক্ষেত্রে বিধায়ক সংখ্যার হিসাবে এগিয়ে থাকা বিজেপি অগ্রাধিকার পাবে বলে মনে করছেন অনেকেই। তার সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিজেপির যে নেতাদের নাম উঠে আসছে তাঁদের মধ্যে পয়লা নম্বরে রয়েছেন, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি। সম্রাটের পিতা শুকুনি একদা সমতা পার্টিতে নীতীশের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। লালুপ্রসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নব্বইয়ের দশকের মধ্যপর্বে নীতীশ ওই দল গড়েছিলেন জর্জ ফার্নান্ডেজকে সঙ্গী করে। পরবর্তী সময় সমতা পার্টি মিশে গিয়েছিল শরদ যাদবের জেডিইউ-তে। আগামী ১৬ মার্চ বিহারে পাঁচটি রাজ্যসভা আসনে ভোট হবে। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে এর মধ্যে চারটিতে শাসক এনডিএর জেতার কথা। এর মধ্যে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-সহ পদ্ম শিবিরের দুই প্রার্থী রয়েছেন। একটিতে লড়ছেন এনডিএ জোটের শরিক রাষ্ট্রীয় লোকমোর্চার নেতা উপেন্দ্র কুশওয়াহা। চতুর্থ আসনটিতে লড়বে জেডিইউ।