E-Paper

নেপাল হয়ে বিহারই কি অনুপ্রবেশের বিকল্প পথ

রাজ্যে গত মাসে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই এক দিকে অনুপ্রবেশ রোখার প্রশ্নে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তেমনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনুপ্রবেশকারীদের বার্তা দিয়েছেন, তাঁরা যদি স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চান, তা হলে সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে না।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ০৯:৩০

— প্রতীকী চিত্র।

ঠিকানা বদল করছেন অনুপ্রবেশকারীরা। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পরে অনুপ্রবেশ প্রশ্নে কড়া অবস্থান নেওয়ায় অনুপ্রবেশকারীদের একাংশ যেমন বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন, তেমনই আর একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে সড়কপথে বিহারের কিসানগঞ্জ হয়ে প্রতিবেশী রাজ্যে ঢুকে পড়ছেন। আবার একাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে নেপাল হলে বিহারে ঢোকার চেষ্টা করছেন। যে কারণে পশ্চিমবঙ্গের পানিট্যাঙ্কি থেকে বিহারের জোগবানি পর্যন্ত নেপাল সীমান্তের চেকপোস্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভারতে প্রবেশকারীদের কড়া তল্লাশি করতে বলা হয়েছে ওই সীমান্তের দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-কে।

রাজ্যে গত মাসে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই এক দিকে অনুপ্রবেশ রোখার প্রশ্নে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তেমনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনুপ্রবেশকারীদের বার্তা দিয়েছেন, তাঁরা যদি স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চান, তা হলে সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে না। অনুপ্রবেশ প্রশ্নে রাজ্য ও কেন্দ্র কড়া অবস্থান নেওয়ায় এক দিকে যেমন পশ্চিমবঙ্গের চেকপোস্টগুলিতে ভিড় বেড়েছে, তেমনই পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহারে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। স্বরাষ্ট্র কর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বিহারের সীমাঞ্চলের জেলাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ হয়ে চলেছে। অনুপ্রবেশকারীদের বসানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া নেটওয়ার্ক গত কয়েক দিনে প্রবল ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেই জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

সূত্রের মতে, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলা থেকে সড়কপথে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা কিসানগঞ্জে ঢুকছেন বলে জানা গিয়েছে। গোয়েন্দাদের মতে, ওই অনুপ্রবেশকারীদের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে যাঁদের পশ্চিমবঙ্গের পরিচয়পত্র রয়েছে, তাঁরা সাময়িক ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নেপালে যেতে মূলত পানিট্যাঙ্কি চেকপোস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের মতে, দিন কয়েক নেপালে কাটিয়ে ওই অনুপ্রবেশকারীরা পশ্চিমবঙ্গে না ফিরে নেপাল-বিহার সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকতে পারেন। তাঁরা বিহারের ঠাকুরগঞ্জ, ফরবিসগঞ্জ, কিসানগঞ্জের মতো চেকপোস্টগুলি দিয়ে ঢুকে জনতার সঙ্গে মিশে যাওয়ার কৌশল নিয়েছেন বলেই খবর।

সূত্রের মতে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে নেপালে নিয়ে যাওয়া, সেখানে সাময়িক থাকার ব্যবস্থা ও শেষে বিহার সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশে সাহায্যের পিছনে একাধিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। তাই নেপাল-ভারত সীমান্তে পাহারার দায়িত্বে থাকা এসএসবি-কে আলাদা করে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পরিবার নিয়ে নেপাল থেকে বিহারে যাঁরা প্রবেশ করতে চাইছেন, তাঁদের উপর বিশেষ ভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

India-Nepal Infiltrators

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy