Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

মোদীর মরাঠাবিজয়

নিঃশর্ত সমর্থনে উদ্ধবের চাপ বাড়ালেন পওয়ার

কেন্দ্রে সরকার গড়ার চার মাসের মাথায় আরও দু’টি রাজ্য এল নরেন্দ্র মোদীর ঝুলিতে। এল কোনও জোটসঙ্গী ছাড়াই ভোটে লড়ে। এল মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা, দুই

দিগন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়
নয়াদিল্লি ২০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:১১
Save
Something isn't right! Please refresh.
জয়ের জুটি। সংসদীয় দলের বৈঠক শুরুর আগে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। রবিবার নয়াদিল্লিতে।

জয়ের জুটি। সংসদীয় দলের বৈঠক শুরুর আগে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। রবিবার নয়াদিল্লিতে।

Popup Close

কেন্দ্রে সরকার গড়ার চার মাসের মাথায় আরও দু’টি রাজ্য এল নরেন্দ্র মোদীর ঝুলিতে। এল কোনও জোটসঙ্গী ছাড়াই ভোটে লড়ে। এল মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা, দুই রাজ্যেই শাসক কংগ্রেসকে এক ধাক্কায় তৃতীয় স্থানে ফেলে দিয়ে।

আড়াই দশকের জোটসঙ্গী শিবসেনার সঙ্গে ভোটের মুখে বিচ্ছেদ সত্ত্বেও মহারাষ্ট্রে মোদীর দলই এখন ‘বড় দাদা’। ২০০৯-এর বিধানসভায় ৪৬টি আসন থেকে এ বারের ভোটে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ জুটির সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়াল ১২২। ২৮৮ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক-সংখ্যা থেকে মাত্র ২৩টি আসন দূরে বিজেপি। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯০ সালে বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস ১৪১টি আসন জেতার পর মহারাষ্ট্রে এ যাবৎ আর কোনও দল একক ভাবে একশোর গণ্ডি টপকাতে পারেনি। আর ৯০ আসনের হরিয়ানা বিধানসভায় গত বারের ৪টি আসন থেকে এ বার ৪৭টি আসন জিতে একাই সরকার গড়তে চলেছে মোদীর দল।

সম্প্রতি বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের উপনির্বাচনে বিজেপি ধাক্কা খাওয়ার পরে মোদী-হাওয়ার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। রাজনীতিকদের একাংশের বক্তব্য ছিল, উপনির্বাচনে স্থানীয় বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়। তাই এই ফল দেখে সামগ্রিক বিচার করা ঠিক নয়। মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানার ভোটে দেখা গেল, সেই যুক্তিই ঠিক।

Advertisement

মহারাষ্ট্রে সরকার গড়তে অবশ্য কোনও না কোনও শরিকের হাত ধরতেই হবে বিজেপিকে। সে ক্ষেত্রে শিবসেনার নামই প্রথম উঠেছে। কিন্তু ইতিমধ্যে নতুন প্যাঁচ কষে দিয়েছেন মরাঠা স্ট্রংম্যান শরদ পওয়ার। যার ফলে আখেরে সুবিধা হয়েছে বিজেপির। আর দর কষাকষির স্নায়ুযুদ্ধে পিছিয়ে পড়েছে শিবসেনা।

ভোটের আগে বিজেপি-শিবসেনা জোট ভেঙে যাওয়ার আধ ঘণ্টার মধ্যে পওয়ারের এনসিপি-ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভেঙে দিয়েছিল। আর আজ ফল প্রকাশের পরে রাজ্যের পরবর্তী বিজেপি সরকারকে বাইরে থেকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন পওয়ারের দলের নেতা প্রফুল্ল পটেল। বিজেপি-শিবসেনা ভাঙনের পিছনেও অনেকে পওয়ারের চিত্রনাট্য দেখেছিলেন। বিজেপির অন্দরের খবর, পওয়ার কোনও অবস্থাতেই ক্ষমতার বাইরে থাকতে চান না। তাই ভোটের আগে বিজেপি-শিবসেনার জোট ভেঙে এখন নিজেই সেই জোটে সামিল হতে চাইছেন। সে ক্ষেত্রে নিতিন গডকড়ীর মতো কোনও নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়ে বাইরে থেকে ক্ষমতা ভোগ করতে চান তিনি।

ভরদুপুরে পওয়ারের এমন একটি ব্রহ্মাস্ত্র আসায় সব থেকে বেশি লোকসান যাঁর হল, তিনি উদ্ধব ঠাকরে। শিবসেনা প্রধান ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করে বসায় জোট ভেঙেছিল। এখন জোট হলেও তাঁকে আর মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়বে না বিজেপি। উল্টে শিবসেনার শর্ত না মানলেও পওয়ারের নিঃশর্ত সমর্থনে বিজেপির সরকার গড়া আটকাবে না। ফলে বিজেপির সঙ্গে দর কষাকষিতে প্রথমেই পিছিয়ে পড়লেন উদ্ধব। যদিও বিজেপির সিংহভাগ নেতাই শিবসেনার সঙ্গ নেওয়ার পক্ষপাতী। খোদ লালকৃষ্ণ আডবাণী আজ অনেক দিন পর দলের কোনও বিষয়ে মুখ খুললেন। অমৃতসরে তিনি জানান, বিজেপি-শিবসেনা মিলেই সরকার গড়া উচিত।

আজ দিল্লিতে মোদীর উপস্থিতিতে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে স্থির হয়, মুখ্যমন্ত্রী পদে কে বসবেন, তা স্থির করতে কাল মুম্বই যাবেন রাজনাথ সিংহ। তবে বিজেপি সূত্র বলছে, মুখ্যমন্ত্রীর নাম স্থির করা উপলক্ষ মাত্র। সেই পদে মহারাষ্ট্রের বিজেপি সভাপতি দেবেন্দ্র ফড়নবীসের নাম এক রকম ঠিকই হয়ে আছে। আসলে উদ্ধবের সঙ্গে আলোচনার জন্যই রাজনাথকে পাঠানো হচ্ছে মুম্বইয়ে।

কেন?

আসলে উদ্ধব প্রায়শই আক্ষেপ করে এসেছেন, নয়া প্রজন্মের হাতে বিজেপির রাশ গিয়েছে বলেই আজ জোট ভাঙল। তা না হলে অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, প্রমোদ মহাজন, গোপীনাথ মুন্ডে, নিদেনপক্ষে রাজনাথ সিংহ সভাপতি থাকলেও জোট ভাঙত না। তাই কারও কারও মতে, রাজনাথকে পাঠানোর আসল উদ্দেশ্য হল, উদ্ধবকে কিছুটা স্বচ্ছন্দ হয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া।

আজ সন্ধ্যায় দিল্লিতে যখন বিজেপির সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক চলছে, তখন মাতোশ্রীতে সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্ধব বলেন, “আমার ইগো নেই। বিজেপির থেকে কোনও প্রস্তাব এলে বিবেচনা করব। তবে আগ বাড়িয়ে সমর্থন জানালে যদি বিজেপি গ্রহণ না করে! আর যদি এনসিপির সমর্থন নিয়েই বিজেপি সরকার গড়তে চায়, তা হলে গড়ুক।” এই সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীনই ‘বিজেপি নেতার ফোন এসেছে’ বলে তড়িঘড়ি বৈঠক ছাড়েন উদ্ধব। কিন্তু বিজেপি সূত্রের দাবি, উদ্ধবকে ফোন করা হয়নি। বরং তিনিই মোদী ও অমিত শাহকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বিজেপি যা-ই বলুক, এনসিপির ‘সমর্থন’ নিয়ে সরকার গড়াটা তাদের পক্ষে ঝুঁকিরও। প্রথমত, তারা কেন্দ্রে বিজেপির জোটসঙ্গী নয়, উপরন্তু পওয়ার ছিলেন ইউপিএ সরকারের মন্ত্রী। দ্বিতীয়ত, বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়েও দুর্নীতি নিয়ে পওয়ারের দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছিলেন মোদী। এখন সেই এনসিপির সমর্থন নিয়ে সরকার গড়লে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তেই হবে তাঁদের। বরং ভোটে আলাদা লড়লেও বৃহন্মুম্বই পুরসভা ও রাজ্যের বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত চালাচ্ছে বিজেপি-শিবসেনা জোট। কেন্দ্রে শিবসেনার মন্ত্রী অনন্ত গীতে গত কালও মোদী মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। কাজেই বিজেপি-শিবসেনা জোট অভাবনীয় কিছু নয়।

সবিস্তার দেখতে ক্লিক করিন...



তবে আপাতত উদ্ধবের উপরে চাপ বজায় রাখারই কৌশল নিচ্ছে বিজেপি। যে কারণে অমিত শাহ আজ বলেছেন, “উদ্ধব বিজেপির জন্য যত বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়েছিলেন, তার থেকে বেশি পেয়েছি আমরা।” উদ্ধব নিজেও জানেন, তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া অসম্ভব। এই অবস্থায় শিবসেনা নেতা গজানন কীর্তিকর বলেছেন, “বিজেপির উচিত উপমুখ্যমন্ত্রীর পদটি অন্তত দেওয়া। পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক।” যদিও বিজেপি সূত্রের মতে, এক বার আলোচনায় বসলে আড়াই বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পদও চাইতে পারেন উদ্ধব। কেন্দ্রে আরও মন্ত্রী করার দাবিও জানাতে পারেন। কিন্তু বিজেপি খুব বেশি শর্তের কাছে মাথা নোয়াতে চায় না।

শেষ দৃশ্যে যা-ই ঘটুক, চিত্রনাট্যের রাশ বিজেপিরই হাতে। খেলা জমিয়ে দিয়েছেন শরদ গোবিন্দরাও পওয়ার।

ছবি: এএফপি, পিটিআই



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement